বৃষ্টি না হওয়ায় নওগাঁয় আমন চাষে শঙ্কা

 
আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণের এক সপ্তাহ পার হলেও নওগাঁতে তেমন বৃষ্টি নেই। আমন ধানের ভরা মৌসুমে অনাবৃষ্টির কারণে ধান লাগাতে পারছেন না নওগাঁর অধিকাংশ কৃষক। এদিকে সেচ দিয়ে জমি চাষ ও ধান লাগাতে গিয়ে কৃষকের খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 
কৃষকরা জানিয়েছে, শ্রাবণের শেষে আমন ধান লাগালে উৎপাদন কম হয়। কিন্তু কৃষি বিভাগ বলছে, শুক্রবার পর্যন্ত মাত্র ১২ হাজার জমিতে আমন ধান চাষ করা সম্ভব হয়েছে। এই ধান আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত লাগানো হয়। এতে জেলায় উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা নেই।
 
জানা গেছে, খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা নওগাঁ বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির উপর নির্ভর করে এই আমন ধান চাষ করা হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় এক লাখ ৯৭ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আষাঢ় পেরিয়ে শ্রবণের প্রায় এক সপ্তাহ শেষ হলো। দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক বৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিলেও নওগাঁতে তেমন বৃষ্টি নেই। অনাবৃষ্টিতে বিপাকে পরেছেন জেলার আমন ধান চাষিরা। জমি চাষ করার পরও বৃষ্টির অভাবে জমিতে লাগাতে পারছেন আমন ধান।
 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় উন্নত ফলনশীল (উফশী) জাতের এক লাখ ৭৪ হাজার ছয়শ' ৪০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ২২ হাজার তিনশ' ৯০ হেক্টর। উফশী জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ব্রিধান-৩৪, ব্রিধান-৪৯, ব্রিধান-৫৯, ব্রিধান-৫২, ব্রিধান-৫৭ এবং স্বর্ণা। স্থানীয় জাতের মধ্যে রয়েছে চিনি আতপ, বিন্নিফুল এবং কালিজিরা।
 
পোরশা উপজেলার বাঁকইল গ্রামের কৃষক মাইনুল ইসলাম, ছাওড় গ্রামের আইয়ুব আলী, জালুয়া গ্রামের সাত্তার সরদার, মহাডাংগা গ্রামের মোজাম্মেল হক জানান, তাদের এলাকায় গভীর নলকূপ না থাকায় বৃষ্টির পানি ও সেচ সঙ্কটের কারণে আমনের ক্ষেত ফেটে যাচ্ছে। আষাঢ় শেষ হয়ে গেলেও জমিতে আমরা ধান লাগাতে পারেনি। আমাদের বৃষ্টির পানির জন্যই অপেক্ষা করতে হয়। বৃষ্টি না হয়ে এভাবে চলতে থাকলে বৃষ্টির অভাবে আমরা বরেন্দ্র এলাকার কৃষকেরা ধান লাগাতে পারবো না। ফলে আমাদের উপজেলায় ধান উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা অর্জন নাও হতে পারে।
 
পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবার রহমান জানান, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৯হাজার হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলার কিছু এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় মাত্র পাঁচ শতাংশ জমিতে ধান লাগানো সম্ভব হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক কারণে অনাবৃষ্টি হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত নাও হতে পারে।
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক জানান, স্বাভাবিকভাবে নওগাঁয় বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত মাত্র ১২ হাজার জমিতে চাষ করা সম্ভব হয়েছে। আমন জাতের ধান আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত লাগানো হয়। এতে জেলায় উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা নেই। এখন পর্যন্ত উন্নত বীজ, সার, কীটনাশকের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আমন চাষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে যেতে পারে।
 
ইত্তেফাক/জামান