অবিরাম বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট নদীর পানির তীব্র স্রোতে পরশুরাম ও ফুলগাজীর মুহুরী, সিলোনিয়া, কহুয়া নদীর ৯ স্থানে ভাঙ্গনে ফুলগাজী-পরশুরাম এলাকায় পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। বন্ধ রয়েছে ফুলগাজী-পরশুরাম সড়ক। এ পর্যন্ত উপজেলার ২৬ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে শতাধিক বাড়ী ঘর পানির নিচে ও প্রায় ৪৫ টি মৎস্য পুকুর, ফসলি জমি পানিতে ভেসে গেছে।
গতকাল শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বন্যায় কবলিত এলাকায় ৫শ পরিবারকে শুকনা খাবার বিতরণ করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, শুক্রবার গভীর রাতে ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রবল স্রোতে মুহুরী, সিলোনিয়া, কহুয়া নদীর বাঁধের ৯ টি স্থানে ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গা স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করে ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের শালধর, বেকের বাজার, দেড়পাড়া, রতনপুর, দক্ষিণ নিলক্ষী, মনতলা, গাবতলা, শ্রীপুর, দৌলতপুর, কহুয়ারটেক, বৈরাগপুর নদীর পাড়, সাতকুছিয়া, নোয়াপুর, বদরপুর, কামাল্লা, গোশাইপুর, করইয়া, তারালিয়া, শ্রী চন্দ্রপুর, বশিকপুর, বাঘমারা, বেড়াবাড়ীয়া, উত্তর টেটেশ্বর, চারিগ্রাম, জমিয়ার গাঁ, গুথুমাসহ প্রায় ২৬ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মুহুরী নদীর পানি পরশুরাম পয়েন্টে বিপদসীমার ২ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের পানিতে ফুলগাজী বাজারসহ নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ায় স্থানীয় জনগণ স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় আশ্রয় নিয়েছে।
প্রতি বৎসর বর্ষা আসলেই পরশুরাম, ফুলগাজী মুহুরী নদীর বাঁধ ভাঙ্গার কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, মুহুরী নদীর ১২২ কিলোমিটার বাঁধ পুরোটাই সাধারণ জনগণের জমির উপর দিয়ে করা হয়েছে। কিন্তু সরকার এই জমিগুলো আজ পর্যন্ত অধিগ্রহণ করে নাই। ফলে বাঁধের উপরে জমির মালিকেরা বাড়িঘর করে বসবাস করছে। যার কারণে অতি বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের পানি নিচের দিকে চাপ দিলে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়।IMG0
কর্মকর্তা জানান, কুমিল্লার গোমতী নদীর বাঁধের মতো মুহুরী নদীর ১২২ কিলোমিটার বাঁধ এলাকা সহ আরো কিছু জমি সরকার অধিগ্রহণ করে বাঁধ দিলে প্রতি বৎসর নদীর বাঁধ ভেঙ্গে মানুষের যে কোটি কোটি ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে তা হতো না। এছাড়াও মুহুরী নদীর ভিতরে বালুতে ভরাট হয়ে যাওয়া ও নদীর পাড়ের দুই পাশে বড় বড় গাছ উঠে নদীর স্রোতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেও প্রতি বছর বন্যা দেখা দিচ্ছে। এ বন্যা থেকে এলাকার জনগণকে রক্ষা করার জন্য কিছু দিন পূর্বে ফুলগাজী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নদী খনন ও নদীর দুই পাশে গাছ কেটে নদীর প্রবাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও অদৃশ্য কারণে তা স্থগিত হয়ে রয়েছে।
অপরদিকে অবিরাম বৃষ্টির কারণে ফেনীর পৌরসভার এলাকার একাডেমী সড়ক, পাছগছিয়া সড়ক, শান্তি রোড সহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পৌর বাসীর ভোগান্তি চরমে উঠেছে। স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সহ এলাকাবাসীকে এক হাঁটু পরিমাণ পানি পাড়ি দিয়ে তাদের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। পৌরসভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও ভূমিদস্যুরা পাগলীছড়া খাল, দাউদপুল খাল ভরাট করে ফেলার কারণে ড্রেনের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়ায় শহর থেকে দ্রুত পানি নামতে পারছে না। গত বছর যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নির্দেশ দেন যে, সড়ক ও জনপথের জায়গায় পাগলীছড়া খাল ও দাউদপুল খালের উপর অবৈধভাবে যে সকল স্থাপনা করা হয়েছে তা অবিলম্বে উচ্ছেদ করার জন্য ফেনী জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিলেও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এসকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও অদৃশ্য কারণে তাহা আর উচ্ছেদ হয়নি। ফলে এ বছর প্রবল বর্ষায় ফেনী শহর ও শহরতলী চারদিকে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
ইত্তেফাক/এমআর