গফরগাঁওয়ে স্কুল মাঠে হাঁটু পানি


গফরগাঁও উপজেলার খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয় ও খারুয়া বড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বছরে ছয়/সাত মাস ধরে হাঁটু পানি জমে রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, নিয়মিত অনুশীলন, অ্যাসেম্বলি বন্ধ থাকে। অথচ এই উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েদের ফুটবল টিম আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় গত বছর উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও জেলা পর্যায়ে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

১৯৫২ সালে ৯২ শতাংশ জমিতে এ বিদ্যালয় দুইটি স্থাপন করা হয়।

জানা গেছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ আয়তনের স্কুল মাঠটি প্রতিবছর মে/ জুন থেকে শুরু করে অক্টোবর মাস পর্যন্ত জলমগ্ন থাকে। এই দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার দুইশ শিক্ষার্থীর জন্য এ একটিই মাত্র খেলার মাঠ। এ ছাড়া আশেপাশের দুই/তিন গ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছেলে-মেয়েদের একমাত্র ভরসা এ মাঠটি। কিন্তু বছরের অধিকাংশ সময়ই পানির নিচে ডুবে থাকে মাঠটি। ফলে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া জলাবদ্ধ মাঠ পার হতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী চুলকানিসহ পানিবাহিত অনেক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ সময় বিদ্যালয় দুটিতে উপস্থিতিও কমে যায়। ২০০৬ সালে উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের সময় বিদ্যালয় মাঠের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে এ দুরাবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষ গত ১০ বছর যাবত্ প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার, আবেদন-নিবেদন করেও জলাবদ্ধতা নিরসনের কোনো বরাদ্দ পাচ্ছে না।

খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল দলের খেলোয়াড় রিয়া, স্বর্না, সুমাইয়া, মিতু, মাকসুদা, তামান্না আক্ষেপ করে বলে, ইন্টারস্কুল ফুটবলের তারিখ হয়ে গেছে। কয়দিন পরেই খেলা। মাঠে হাঁটু পানি, আমরা প্রাকটিসে নামতে পারছি না।

খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিনা দেবনাথ, খারুয়া বড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আনিছুর রহমান জানান, মাঠ জলাবদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। জলাবদ্ধ মাঠ পেরিয়ে বাথরুমেও যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু