মেঘনার ভাঙনে হুমকির মুখে দৌলতখান উপজেলা সদর

ভোলার দৌলতখানে এক সপ্তাহ ধরে মেঘনার ভাঙন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দৌলতখান পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ড, সৈয়দপুর ইউনিয়নের পাচটি ওর্য়াড এবং ভবানীপুর ইউনিয়নের অনেকাংশ এখন প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। এছাড়া দৌলতখান বাজার রক্ষা বাঁধেরও কিছু অংশ এখন নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। এসব এলাকার  মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে অজানা গন্তব্যে দিন কাটাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে নদী ভাঙন রোধের ব্যবস্থা না নিলে দৌলতখান বাজার নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে বালি ভর্তি ৯০ হাজার ব্যাগ ভাঙ্গন কবলিত স্থানে ডাম্পিং প্রয়োজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩০ হাজার ব্যাগ ডাম্পিংয়ের অনুমোদন দিয়েছে।
 
সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দৌলতখান  পৌর শহরের থানা বাউন্ডারি থেকে মাত্র দুইশত গজ দূরে মেঘনা নদী সংলগ্ন ৫০ শয্যা  বিশিষ্ট হাসপাতালের সাথেই  বেড়িবাঁধ। এই বেড়িবাঁধটি ভেঙে গেলেই বহু পুরনো এই দৌলতখান বাজারকে আর রক্ষা করা যাবেনা। 
 
ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষরা জানান, আমরা এখন কি করব, কোথায় যাব। স্থানীয় এমপির পক্ষ থেকে বার বার আমাদেরকে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। যে, দৌলতখানকে রক্ষার জন্য ৫৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে টেন্ডার হবে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এ কাজের গতি থমকে আছে। ফলে দিনের পর দিন নদী ভাঙন বেড়েই চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রাচীন এই বাজারটি একদিন নদী গর্ভে হারিয়ে যাবে। 
 
তারা আরও জানান, মাত্র কিছুদিন আগে ৫ তলা বিশিষ্ট নতুন থানা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে ব্যয় হয়েছে সাড়ে সাত কোটি টাকা। উদ্বোধনের আগেই হয়তো বা মেঘনার গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে সেই থানা ভবনটি।
 
২০০৩ সালে এখানে ৩২ কোটি টাকা ব্যয় করে প্রায় এক কিলোমিটারের অধিক এলাকায় জিও ব্যাগ ও ব্লক স্থাপনের ফলে নদী ভাঙন বন্ধ ছিল। এতে এলাকাবাসীর কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা পেয়েছে। এখন নদী ভাঙন অনেক বেড়ে গিয়ে সেই ব্লকগুলো নদীর গর্ভে প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। IMG0
 
দৌলতখান পৌরসভার সাবেক কমিশনার জাকির হোসেন বাবুল জানান, নদী ভাঙন রোধে সরকার ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা নিজ উদ্দ্যোগে প্রায় কয়েক লাখ টাকার বালি বস্তা ভরে নদীতে ফেলেছি। সেই বস্তাগুলো নদীতে তলিয়ে গেছে। 
 
স্থানীয় ব্যবসায়ী কাজী কামাল জানান, আমরা অনেকটা আতঙ্কের মধ্যে আছি, যে কোন সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে কয়েকশত দোকান-পাট ও ঘরবাড়ি নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। নদী ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে বেড়িবাঁধ ভেঙে দৌলতখানের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ হারিয়ে যাবে। একসময় ধন দৌলতে ছিল দৌলতখানের নাম, হয়তো বা মানচিত্র থেকে চিরতরে দৌলতখানের নাম মুছে যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে জনগণ শুধু আশ্বাসই পেয়েছে। নদী ভাঙন রোধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হয়নি। 
 
এ ব্যাপারে ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আক্তার জানান, বর্তমানে দৌলতখানের চৌকিঘাট, ভবানীপুর ও সৈয়দপুর এলাকা মেঘনায় ভাঙছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে বালি ভর্তি ৯০ হাজার ব্যাগ ভাঙ্গন কবলিত স্থানে ডাম্পিং প্রয়োজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩০ হাজার ব্যাগ ডাম্পিংয়ের অনুমোদন দিয়েছে। গেল ১৮ জুলাই পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দৌলতখানের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কিন্তু তিনি কোন কার্যকর সিদ্ধান্ত দিয়ে যাননি। দৌলতখানবাসী তাদের পৈত্রিক ভিটামাটি রক্ষায় নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ভোলা জেলাবাসীর অভিভাবক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
 
ইত্তেফাক/এমআই