বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিক সালমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, সরকার এ ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।
রবিবার বেলা রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় নব-নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন। মোহনপুরের ইউএনও শুক্লা সরকারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন স্থানীয় (পবা-মোহনপুর) সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি, সহ-সভাপতি বেগম আকতার জাহান এমপি ও সদস্য কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা এমপি প্রমুখ।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘বরিশালের ইউএনও হয়রানিটা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য বিষয় নয়। আমরা এর শেষ দেখে নেব। কারণ, আমার মনে হচ্ছে এটা সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। এর বিচার অবশ্যই হবে। এই মুহূর্তে দলমত বলে কিছু নেই। যে অন্যায় হয়েছে, এর বিচার হবে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মামলার পেছনে অন্য কোনো শক্তি মদদ দিয়েছে কি না তাও খোঁজা হচ্ছে।’ প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী এই মন্ত্রী। পরে মোহনপুরে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্রে পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ব্যবহার করেছিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়ার তত্কালীন ইউএনও তারিক সালমান। আমন্ত্রণপত্রে বঙ্গবন্ধুর ‘বিকৃত’ ছবি ব্যবহার করা হয়েছে অভিযোগে গত ৭ জুন তার বিরুদ্ধে বরিশাল আদালতে মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ সাজু। ওই মামলায় আদালতে হাজির হয়ে ইউএনও সালমন জামিন চাইলে আবেদন নাকচ করে তাকে হাজতে পাঠানো হয়। এর দুই ঘণ্টা পর জামিন পান ইউএনও। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে মামলার বাদী জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সাজুকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে রোববার তিনি আদালত থেকে মামলাটি তুলে নেন।
ইত্তেফাক/এএম।