মৌসুমের অর্ধেক পার

নদী-সাগরে মিলছে না ইলিশ জেলেদের মাঝে হাহাকার

মৌসুমের অর্ধেক সময় পার হলেও শরণখোলায় নদী ও সাগরে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন নিয়ে নদী সাগরে জাল ফেলে ইলিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে খালি ট্রলার নিয়ে ফিরছেন জেলেরা। জেলে পল্লীতে চলছে হাহাকার। ঋণ পরিশোধের চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

প্রতিবছর বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ইলিশ আহরণ মৌসুম। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে নদী ও সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। কিন্তু এখন ভরা মৌসুম হলেও ইলিশের দেখা মিলছে না। ফলে এ অঞ্চলের কয়েক সহস্রাধিক জেলে পরিবারের মাঝে হতাশা নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে ফিসিং ট্রলার মালিকরা বিরাট অংকের লোকসানের সম্মুখীন।

শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা গ্রামের জেলে মোস্তফা বেপারী, ডালিম সেপাই, রাজৈর গ্রামের খালের কামাল হোসেন, রায়েন্দা বাজারের তহিদুল ইসলাম তালুকদার, খাদা গ্রামের সোবাহান মৃধাসহ অসংখ্য ট্রলার মালিক জানান, মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তারা লাভের মুখ দেখেননি। অনেকে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তনেরও চিন্তা করছেন বলে তারা জানান।

শরণখোলা উপজেলা মত্স্য আড়ত্দার সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ফরাজী জানান, প্রতি গোনে উপজেলার দুই শতাধিক ফিশিং ট্রলার তিন সহস্রাধিক জেলেকে নিয়ে সাগরে ইলিশ আহরণ করতে যায়। এবার মৌসুমের শুরু থেকে ফিশিং ট্রলারের মালিকরা চার/পাঁচ থেকে ছয়টি ট্রিপ দিয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ট্রলার মালিক লোকসানে পড়েছেন। তিনি আরো জানান, মহাজনের কাছ থেকে প্রতি গোনে ট্রলার মালিকরা ট্রলার ভেদে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত দাদন নিয়ে ডিজেল, চাল, ডালসহ মুদি সদায় নিয়ে সাগরে যান ইলিশ ধরতে। যখনই সাগরে জেলেদের জালে ইলিশ পড়তে শুরু করে তখনই বৈরি আবহাওয়া তাদের প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়। সাগর ছেড়ে তখন ট্রলার নিয়ে যেতে হয় নিরাপদ আশ্রয়ে। আবহাওয়া ঠিক হতে হতে গোন চলে যাওয়ায় ইলিশ শূন্য অবস্থায় ট্রলার নিয়ে তাদেরকে ফিরে আসতে হয়।

রাজৈর গ্রামের কবির আড়ত্দার জানান, প্রতিবছর জলদস্যুদের টোকেন চাঁদা দেওয়া এবং জিম্মি জেলেদের মুক্ত করে আনতে ট্রলার মালিকদের লাখ লাখ টাকা গুনতে হতো। এখন তা মোটেই লাগছে না। তারপরও জেলেরা স্বস্তিতে নেই। তারা আশায় বুক বেঁধে  ইলিশ পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন বলে জানান।

ইত্তেফাক/নূহু