ফকিরহাটে মত্স্য ঘের ও ফসলি জমি প্লাবিত

ফকিরহাটে অবিরাম বৃষ্টির সাথে জোয়ারের পানিতে আমন বীজতলাসহ মত্স্য ঘের ও কৃষি ফসল প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টাউন নওয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি স্কুলে পানি জমে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে ফকিরহাটের আট্টাকী ঋষিপাড়া, চৌধুরীপাড়া, কুন্ডুপাড়া, ঝুটোতলা, বারাশিয়া, পিলজংগের শ্যাম্বাগাত, বৈলতলিসহ বিভিন্ন এলাকা। রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতায় ২০ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ সকল এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ডাইরিয়া, জ্বর, সর্দিকাশিসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে অনেকেই।

উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফুল কামাল কারিম জানান, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলোকায় ছোট বড় প্রায় অর্ধশতাধিক নদী-খাল পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। গত বছরের ন্যায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সর্বস্বান্ত হতে চলেছে চিংড়ি ঘের মালিকসহ মরা ভৈরব উপকূলবর্তী চাষিরা। স্থানীয় কৃষক ও মত্স্যচাষি, মোঃ টিপু শেখ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাজমা বেগম, গনি শেখ, খাইরুল হালদার, আকাশ বিশ্বাসসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, যে যার মতো পানি চলাচলের পথ বন্ধ রাখায় ও পলি জমে নদী-খাল ভরাট হওয়ায় পানি সরবরাহ করতে পারে না। পিলজংগ ইউপির নওয়াপাড়া ও ধরের ব্রিজ এলাকায় কৃষি জমিতে নদী-খাল ভরাট করে অপরিকল্পিত শিল্পায়নের ফলে ধান, পান, মত্স্য ঘের পানিতে ডুবে প্রতিবছর কোটি কোট টাকার ক্ষতি হয়।

উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা ইখতেখারুল আলম বলেন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সুগম না থাকায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে প্রায় শতাধিক মত্স্য ঘের তলিয়ে গেছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে প্রায় একশ হেক্টর মত্স্য ঘের প্লাবিত হতে পারে এমন  আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

বাহিরদীয়া মানসা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ফকির বলেন, দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু করা না হলে উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন বলেন, অবিরাম বৃষ্টিতে প্রায় ১০ হেক্টর জমির কৃষি ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন বীজতলা।  

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ শাহানাজ পারভীন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পানি নিষ্কাশন বব্যস্থা সুগম করাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তবে নদী-খাল অবৈধ দখলে থাকার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে অভিযোগ বা সংবাদ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু