ফেনী জেলা কারাগারে বর্তমানে কারাবন্দি ধারণ ক্ষমতা ১৭২ জন থাকলেও এখানে বর্তমানে ৮৯৪ জন কারাবন্দি গাদাগাদি করে থাকার কারণে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
ফেনী জেলা কারাগারটি ১৯১৫-১৬ সালে তত্কালীন ব্রিটিশ সরকারের অধীনে প্রায় ১ দশমিক ৫০ একর জমির ওপর শহরের প্রাণকেন্দ্রে উপ-কারাগার হিসেবে নির্মাণ করা হয়। এর ভেতরে বন্দিদের রাখার জন্য ০.৪১ একর ও বাইরে ১.০৯ একর জমি বরাদ্দ করা হয়। তত্কালীন সরকার দেশের জনসংখ্যার ওপর লক্ষ্য রেখে কারাগারটির ধারণ ক্ষমতার ১৭২ জন বন্দি রাখার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছিল।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করলেও কারাগারের পরিধি ও সুযোগ সুবিধা বাড়েনি। ৪৭ বছর পর্যন্ত তত্কালীন ফেনী মহকুমার উপ-কারাগার হিসেবে চলে আসছিল। ১৯৮৪ সালে ফেনী জেলায় রূপান্তরিত হওয়ার পর উক্ত উপ-কারাগারটি কোনো সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই ১৯৯৫ সালে জেলা কারাগার হিসেবে উন্নীত হয়।
জেল সুপার রফিকুল কাদের জানান, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ৬ গুণ বন্দি কারগারটিতে থাকায় রাত-দিন পালাক্রমে ঘুমাতে হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত শৌচাগার না থাকায় সেখানে তাদেরকে পালাক্রমে শৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে বন্দিরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। বর্তমানে ফেনী জেলা কারাগারে কর্মরত একজন জেল সুপার, সহকারী সার্জেন একজন থাকার কথা থাকলেও তার পদটি দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। এ ছাড়াও কর্মরত জেলার একজন, প্রধান কারারক্ষী তিনজন ডেপুটি জেলারের পদটি শূন্য রয়েছে, পুরুষ কারারক্ষী ৩১ জন, মহিলা কারারক্ষী ৫ জন, ফার্মাসিস্ট একজন ও কারা সহকারী একজন পদ শূন্য রয়েছে।
বর্তমানে জেলা কারাগারে বন্দিদের মধ্যে পুরুষ হাজতি ৭৬২ জন, মহিলা হাজতি ১০ জন। ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি পুরুষ ৬০ জন, মহিলা দুইজন, বিনাশ্রমে পুরুষ কয়েদি ৫৪ জন, মহিলা দুইজন, আরপি ভারতীয় আসামি তিনজন ও নাইজেরিয়ান হাজতি চারজন, মায়ের সঙ্গে শিশু একজনসহ মোট ৮৯৪ জন বন্দি রয়েছে। এখানে মহিলাদের জন্য একটি ছোট রুম বরাদ্দ রয়েছে সেখানে ১৫ জন মহিলা বন্দীকে অমানবিকভাবে জীবন কাটাতে হচ্ছে।
জেল সুপার আরো জানান, ফেনীর রাণীরহাট এলাকায় নতুন কারাগারের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে কারাবন্দিরা সকল সুযোগ-সুবিধার মধ্য দিয়ে তাদের বন্দি জীবন কাটাতে পারবে।
ফেনী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এএইচএম ফয়জুল ইসলাম জানান, কয়েদিদের সার্বিক অধিকার রক্ষার্থে ২০১২ সালে রাণীরহাট এলাকায় ফেনী জেলার আধুনিক কারাগার নির্মিত হচ্ছে। এ কারাগারে ৩শ বন্দির ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। তবে সরকারের সময়মতো অর্থ বরাদ্দ পেলে ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ হবে।
ইত্তেফাক/নূহু