খোকসা ছাত্রলীগের ৫ নেতা বিবাহিত!

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের নির্দেশ মানেনি কুষ্টিয়ার খোকসার উপজেলা ছাত্রলীগের ইউনিট। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সায়েম হুসাইন সুজনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
 
গত ১২ জুলাই বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাধারণ সভায় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন ছাত্রলীগের যেকোনো ইউনিটে পদধারী বিবাহিত নেতা-কর্মীদের ৪৮ থেকে ৭২ঘন্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এ নির্দেশের ১৫ দিন পেড়িয়ে গেলেও খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের ৫ জন বিবাহিত নেতা ও ১ জন চাকরজীবীর কেউ-ই পদত্যাগ করেনি। এখনও তারা ছাত্রলীগের রাজনীতি করছেন বহাল তবিয়্যাতে।
 
সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরের ১৫ তারিখে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াছির আরাফাত তুষার ও সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদ স্বাক্ষরিত ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। কিন্তু ১২ সদস্যের মধ্যে ৬ জনই বিবাহিত এবং চাকরিজীবী। বিবাহিত সদস্যরা হলেন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম জুয়েল, সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান খান, সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক  ফরিদ আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক  খাইরুল ইসলাম। চাকুরীজীবি সদস্য পলাশ কুমার বিশ্বাস বনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন সদস্যই পদত্যাগ করেনি বলে জানাগেছ। আবার এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কোন প্রদক্ষেপ নেননি সভাপতি সায়েম হোসেন সুজন বলে সুত্রটি জানিয়েছে।
 
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সভায় আরও নিদের্শ দেওয়া হয়েছিল আগামী ১০ দিনের মধ্যে উপজেলা, কলেজ, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার। কিন্তু ১৫ দিন পেড়িয়ে গেলেও উপজেলা কমিটিসহ কোন ইউনিটই পূর্ণাঙ্গ করার কোন প্রদক্ষেপ নেননি সভাপতি সায়েম হোসেন সুজন। এ ব্যাপারে খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
 
কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার এ ব্যাপারে জানিয়েছেন, আসলে খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে কোন বিবাহিত সদস্য নেই। এগুলো প্রতিহিংসামূলকভাবে প্রতিপক্ষরা ছড়াচ্ছে। আপনারা ডকুমেন্ট দেন আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে বিষয়টি নিয়ে জেলা ছাত্রীগের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।