‘যশোরের দুঃখ’ ভবদহ আবারো দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে চলেছে হাজার হাজার পরিবারকে। জলাবদ্ধতার অশনি সংকেত গ্রাস করেছে লাখো মানুষকে।
টানা চারদিনের বর্ষা আর উজানের নেমে যাওয়া পানিতে এখানকার তিন উপজেলার ১২০ গ্রামের ১১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার পানিবন্দি মানুষ ফের জলাবদ্ধতার করালগ্রাসে আটকা পরল কয়েক মাসের জন্য। গত বছরও বর্ষা মৌসুমে ভবদহ অঞ্চলের আড়াই শতাধিক গ্রামের মানুষ টানা কয়েক মাস পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছে। সেসময় জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে প্রশাসন আর এলাকার এমপিদের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ভবদহ অঞ্চলের নদী খালের পলি অপসারণে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা টিআরএম চালু না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ভবদহ অঞ্চলের ওই তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মাছের ঘের ভেসে গেছে। ফসলের মাঠ, বাড়িঘর প্লাবিত হয়ে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে জলাবদ্ধ এলাকায় কয়েকশ’ কোটি টাকার মাছ, ফসল, বাড়িঘর ও সড়কের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
টানা বর্ষণে মণিরামপুর উপজেলার অন্তত ৯ ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শ্যামকুড়, খানপুর, কুলটিয়া, হরিদাসকাটি, মনোহরপুর, মশ্মিমনগর ও হরিহরনগর ইউনিয়নের গ্রামকে গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে আশেপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে আশ্রয় নিয়েছে। ফসল, মাছের ঘের ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। টানা বর্ষণে মণিরামপুরে ১৩শ’ ৬৫ হেক্টর জমির ফসল, ৪৬৩টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। ৫৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া অর্ধশতাধিক কাঁচা বাড়ি ভেঙে গেছে। সবমিলিয়ে ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কেশবপুর পৌর এলাকা এবং উপজেলার প্রায় ৪০টি গ্রামের অন্তত তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শত শত পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থান ও আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যাচ্ছে। ৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে দুই শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ৪শ’ হেক্টর ফসল ও তিন হাজার মৎস্য ঘের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম টুকু জানান, বুধবার পর্যন্ত জলাবদ্ধ তিন উপজেলার তিনশ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরো বাড়তে থাকবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম জানান, তিন উপজেলায় আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানকারী মানুষের জন্য এ পর্যন্ত ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন তাদের জন্য ল্যাট্রিন নির্মাণ করে দিচ্ছে।
ইত্তেফাক/ইউবি