সিরাজগঞ্জে খাঁচায় মাছ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নিরাপদ ও লাভজনক হওয়ায় খাঁচায় মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে অনেকের। জেলায় প্রায় অর্ধশত যুবক মাছ চাষ শুরু করেছে এবং সাবলম্বী হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে তারা বেশ লাভবান হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলার রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলায় ফুরজোড় ও করতোয়া নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চর ঘাটিনা গ্রামের খাঁচায় মাছ চাষী মো. ফজলুল হক জানান, গত ২০১৫ সালে টেলিভিশনে খাঁচায় মাছ চাষের একটি প্রতিবেদন দেখে সে এ ব্যাপারে আগ্রহী হয়। পরে সে উল্লাপাড়া উপজেলা মৎস অফিসে গিয়ে এ ব্যাপারে তার আগ্রহের কথা জানালে তৎকালীন সেখানকার মৎস্য কর্মকর্তা তাকে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ রাজশাহী জেলার ম্হোনপুর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. ইমামুল আহসান এর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে গিয়ে তিনি ড. ইমামুল আহসানের পরামর্শে ২০১৫ সালে ২০ খাঁচা নিয়ে তার বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীতে মনোসেট তেলাপিয়া মাছের চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই তিনি লাভবান হন। এতে তার উৎসাহ বেড়ে যায়। বর্তমানে তার খাঁচার পরিমাণ ৩০টি। এ বছর তার ৩০টি খাঁচায় ৪ শত মাছ চাষ করেছেন। ইতিমধ্যেই প্রতিটি মাছ গড়ে দেড় কেজি ওজন হয়েছে।
ফজলুর হক জানান, এপর্যন্ত তার সব মিলিয়ে ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আশা করছেন এবছর ১৮ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতে পারবেন। মাছ বিক্রির সময় আরও কিছু খরচ হবে তারপরও তার ৭/৮ লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি জানান।
তিনি জানান, তার এই সাফল্য এলাকার আরও অনেকে খাঁচায় মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এবছরই তার এলাকার আরও দুইজন খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করবেন। তিনি জানান, খাঁচায় মাছ চাষ করলে বন্যা বা বর্ষণ জনিত কারণে মাছ ভেসে যাওয়ার ভয় নেই, তাই লোকসানের মুখে পড়তে হয়না। ফলে খাঁচায় মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তাছাড়া বছরে দুইবার এই মাছ চাষ করা যায়।
এ ব্যপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, জেলায় ২৯২টি খাঁচায় প্রায় অর্ধশত মৎস্য চাষী মাছ চাষ করছে। তিনি জানান, এ ব্যাপারে বেকার যুবকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। তারা পরামর্শের জন্য আসছেন। জেলা মৎস্য অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি খাঁচায় ৮শ থেকে ১ হাজার মাছের পোনা দেয়া হয় এতে ৬০/৭০ হাজার টাকা খরচ হয় এবং লাভ হয় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
জেলার মৎস্য চাষীরা জানান, যদি সরকারি ঋণসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যায় তা হলে আরও অনেক বেকার যুবক এ কাজে আসবে। এতে বেকার সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দেশে মাছের চাহিদা অনেকাংশে লাঘব হবে।
ইত্তেফাক/এমআই