জঙ্গি রাশেদ এক বছর ধরে নিখোঁজ ছিল

 
রাজধানীর হলি আর্টিজানে হামলার মূল 'পরিকল্পনাকারী' আসলাম হোসাইন ওরফে মোহন ওরফে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও তার বাবা আব্দুস সালাম এক বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার ভোরে নাটোরের সিংড়া থানা এলাকা থেকে রাশেদ গ্রেফতার হয়েছেন।
 
পুলিশ ও নিখোঁজের পরিবার ধারণা করছে গ্রেফতার হওয়া আসলাম হোসাইন নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসলাম ও তার বাবা গত বছরের জুন মাসে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই তাদের।
 
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছে মোহন নামেই বেশি পরিচিত আসলাম। আট বছর আগে আর্থিক অনটন ও মামলার কারণে আব্দুস সালাম তার স্ত্রী নাসিমা বেগম, ছেলে আসলাম ওরফে মোহন ও মেয়ে জেসমিন আখতারকে নিয়ে রাজশাহীর নওহাটা এলাকার মথুরা নওদাপাড়ায় তার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
 
জানা গেছে, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কাঞ্চনপুর গ্রামে আসলাম একটি কিন্ডারগার্ডেনে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। এরপর ১৩ বছর আগে রাজশাহী জেলার পবা থানায় নদাপাড়ায় নানা সেকেন্দার হাজীর বাড়িতে চলে যান। এরপর আসলাম নানা বাড়ি থেকেই পড়াশুনা করতেন। বছরে মাঝে মধ্যে কাঞ্চনপুর গ্রাম আসতেন।
IMG0
আসলামের চাচি কাঞ্চনপুর গ্রামের মনোয়ার বিবি জানান, দুই বছর আগে কাঞ্চনপুর গ্রামে এসেছিল। এরপর আর আসেননি। আসলামের মা নাসিমা বেগম বলেন, 'গত বছরের ১১ রোজায় ঢাকা যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় মোহন। এর দুই-তিনদিন পর তার বাবাও নিখোঁজ হয়। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ নেই। এখন তারা কোথায় কি অবস্থায় আছে তার কিছুই জানি না। আমার ছেলে গ্রেফতার হয়েছে কিনা তাও এখন পর্যন্ত জানি না।'
 
চাচা আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'মোহনের বাবা আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে আট বছর আগে চেক ডিজঅনারের একটি মামলা হয়। মামলার পরপরেই পরিবার নিয়ে তিনি রাজশাহীতে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে আমাদের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। তারাও আর কোনো দিন গ্রামের বাড়িতে আসেনি।'
 
মান্দা থানার ওসি আনিছুর রহমান জানান, রাশেদ বা আবু জাররা নামে মান্দায় কেউ তাকে চেনে না। মান্দার তেতুলিয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামে আসলাম হোসেন ওরফে মোহন নামে এক ছেলের খোঁজ পাওয়া গেছে। আসলামের বাবা আব্দুস সালাম চেক ডিজঅনার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
 
তিনি আরো জানান, শুক্রবার বিকেলে পর্যন্ত জেলা পুলিশের হাতে কোন তথ্য আসেনি রাশেদ ওরফে আসলাম হোসাইন মোহন নামে। তারপর তাদের পরিবারের লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিষয়টির ওপর নজর রাখা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/জামান