বর্ষা থেকে হেমন্তের শুরু পর্যন্ত বিলঝিল, হাওড়, ডোবা-নালা, পুকুর, জলাশয় ও নিচুভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় লাল শাপলা।
লাল শাপলা বা রক্ত কমল শাপলা একটি জলজ উদ্ভিদ। পাতা এবং বোঁটা লালচে সবুজ। ১০-২০ সেমি চওড়া, অনেকগুলি পাপড়ি এবং পাপড়ির রঙ লাল। রাতে ফোটে। গোলাকার ফলে অনেকগুলো ছোট ছোট বীজ হয়। বীজ খাওয়া যায়। এ ফুল বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জলাশয়ে দেখতে পাওয়া যায়। আর এটাই আমাদের জাতীয় ফুল। এ ছাড়া বাংলাদেশের পয়সা, টাকা, দলিলপত্রে জাতীয় ফুল শাপলার জলছাঁপ আঁকা থাকে।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের সৌন্দর্যের অপরুপ দর্শনের আরেকটি উপজেলার নাম বরিশালের উজিরপুর। সবুজের বুকে লাল। এ যেন সৃষ্টিকর্তার অপরুপ রুপে সাজানো। বর্ষা মৌসুমে হরহামেশা চোখে পড়ে নয়ন জুড়ানো সৌন্দর্যের প্রতীক লাল শাপলা ফুল। এ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর মানুষ ছেলেবেলা থেকেই শাপলা ফুলের সঙ্গে বেশ পরিচিত। শৈশব থেকেই নৌকা নিয়ে ভেসে কিংবা সাঁতার কেটে বিল-ঝিলে শাপলা তোলার স্মৃতি গ্রামে বেড়ে ওঠা যেন ভুলতেই পারছে না। দিগন্ত জোড়া জলাশয়ে বিস্তীর্নভাবে শাপলা ফুলের সৌন্দর্য বর্ষা ঋতুকে করে তোলে অপূর্ব রূপবতী। কাটা ধান ক্ষেতে জমে থাকা অল্প পানিতে এই ফুল ফুটে থাকতে দেখা যায়। শাপলা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এর কাণ্ড-ডাটা বা পুষ্পদণ্ড সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। পূর্ণ বিকশিত শাপলা ফুলের গর্ভাশয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বীজ থাকে। আঠালো এই বীজ বিভিন্ন গ্রামের মানুষদের খেতে দেখা যায়। এই বীজ ভেজে এক ধরনের খাবার খৈ তৈরি হয়। যার নাম “ঢ্যাপের খৈ”। এ সকল কারণে উপজেলায় ঋতুর রানী বর্ষার প্রধান অলংকার যেন জাতীয় ফুল শাপলা। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর ছেলে-মেয়েরা ব্যতীত অন্যরা বই পুস্তকের মাধ্যমে শাপলা ফুলকে চিনলেও বাস্তবে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ ও বিলঝিল থেকে নিজ হাতে শাপলা তোলার যে আনন্দ তা থেকে পুরোপুরিই বঞ্চিত।
বর্তমান সময়ে উপজেলার বিলাঞ্চল পূর্ব সাতলা, হারতা কালবিলা, কুড়লিয়া, জল্লা, কারফা, ওটরাসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে লাল শাপলার অভয়ারন্য। এ সকল এলাকার হাট-বাজারগুলোতে ছোট ছোট শিশু থেকে বড়দেরও জীবিকা নির্বাহের জন্য সকাল হলেই সবজি হিসেবে শাপলাকে বিক্রি করতে দেখা যায়। শুধু শাপলাই নয়, শাপলার মূলের অংশ অর্থাৎ শালুক গ্রামাঞ্চলে সিদ্ধ করে খাওয়া হয়।
তবে সংশয় হয়তো আর বেশি দিন এই সুন্দর দৃশ্য দেখা হবে না উজিরপুরে। কারণ যে হারে জলাশয় ভরাট চলছে তাতে করে আগামী কয়েক বছরেই সৌন্দর্যের প্রতীক শাপলা ফুল বিলীন হয়ে যাবে।
ইত্তেফাক/ইউবি