মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় তুফান শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কার, তদন্ত কমিটি

বগুড়ায় সদ্য এসএসসি পাস করা এক ছাত্রী ও তার মাকে ন্যাড়া করে বর্বরভাবে নির্যাতনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত বগুড়া পৌরসভার নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি, তার মা রুমি ও ছোট বোন আশা এবং তাদের অন্যতম সহযোগী মুন্নাকে দুইদিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। 
 
তবে এ ঘটনায় গ্রেফতার চারজনের মধ্যে শ্রমিকলীগের শহর কমিটির আহ্বায়ক তুফান সরকারসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। 
 
এদিকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার শ্রমিকলীগ বগুড়া শহর শাখার আহ্বায়ক তুফান সরকারকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বগুড়া জেলা শ্র্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন শেখ হেলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
তিনি জানান, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। তিনি এখন আর শ্রমিক লীগের কেউ নয়।
 
এ ঘটনায় পৌরসভার নারী কাউন্সিলরের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক নূর আলম সিদ্দিকী। কমিটির অপর ২ সদস্য হলেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকতা শহিদুল ইসলার্ম এবং জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম খান।
 
জেলা প্রশাসক ইত্তেফাককে জানান, এই কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্যাতিতার পুনর্বাসনসহ অন্যন্য সুযোগ সুবিধা প্রদানের বিষযটিও কমিটি দেখ ভাল করবে।  
 
এদিকে রবিবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক বগুড়া মেডিকেলে ভর্তি নির্যাতিত ছাত্রী ও তার মাকে দেখতে যান। এ সময় জেলা প্রশাসক নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। পরে নির্যাতিতার চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন, কলেজে ভর্তিসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য যা যা করণীয় তা করবেন বলেও আশ্বাস দেন।
 
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রেফতার হওয়া ৪ আসামির মধ্যে আতিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। শনিবার বিকেলে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আল-মামুন এই জবানবন্দি গ্রহণ করেন। বাকি ৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়।
 
ইত্তেফাক/ইউবি