গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় পারভীন আকতার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে স্বামী ও সতীনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার পাঁচদিন পর রবিবার দুপুরে উপজেলার বসন্তেরাপড়া গ্রামের একটি টয়লেটের কুয়া থেকে ওই গৃহবধূর অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, স্বামী সাইফুল ইসলাম (৩৫), সাইফুলের প্রথম পক্ষের স্ত্রী পারভীন বেগম-২ (৩০), প্রথম পক্ষের স্ত্রীর খালাতো ভাই আব্দুল করিম (২২) ও রানা মিয়া (২০)। নিহত পারভীন আকতার একই উপজেলার কামালেরপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও একই উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের বুনুঙ্গি গ্রামের আফজাল হোসেন সরকারের মেয়ে।
সাঘাটা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, একই উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের বকুল মিয়ার সাথে পারভীনের প্রথম বিয়ে হয়েছিল। ওই বিয়ের ৪ বছর পর অর্থাৎ প্রায় দুই বছর আগে সাইফুল ইসলাম স্বামীর বাড়ি থেকে জোরপূর্বক পারভীনকে তুলে এনে বিয়ে করে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তাকে বিদায় করার জন্য তার ওপর স্বামী ও সতীন মিলে নির্যাতন শুরু করে। কিন্তু তারপরও স্বামীর বাড়ি থেকে চলে না যাওয়ায় পরিকল্পনা করে বেড়ানোর কথা বলে তাকে গত ২৫ জুলাই সাইফুল তার প্রথম স্ত্রীর খালা কোহিনুর বেগমের বাড়ি বসন্তেরপাড়া গ্রামে বেড়াতে নিয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, তারপর থেকে আর তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। এদিকে তার স্বামীর বাড়ীর লোকজন প্রচার করতে থাকে রাগ করে পারভীন বাড়ী থেকে চলে গেছে। এখবর পেয়ে পারভীনের বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েও তার কোন সন্ধান পায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে সাইফুলের খালা শাশুড়ি কোহিনুর বেগমের বাড়ির টয়লেটের কুয়া থেকে পারভীনের লাশ উদ্ধার করে। এনিয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ইত্তেফাক/জামান