চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) গত অর্থবছরগুলোতে বাজেট বাস্তবায়নে হিমশিম খেলেও উচ্চবিলাসী বাজেট প্রণয়ন বন্ধ হচ্ছে না।
গত দুই বছরে রাজস্ব আদায়, সরকারী অনুদানসহ কোনো খাতেই আয়ের উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও এসব খাতে বরাবরের মতো উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা রয়েই যাচ্ছে। গত দুই অর্থবছরে যেখানে যথাক্রমে শতকরা ৩৬ ও ৩১ ভাগ বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে সেখানে ২০১৭-১৮ সালের জন্য আরো শতকোটি টাকা বাড়িয়ে বাজেট পেশ করা হয়েছে।
চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন রবিবার কেবি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে চলতি অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ৩২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১০২ কোটি টাকা বেশি। আর তার আগের বছর অর্থ্যাৎ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের ইতিমধ্যে এক মাস শেষও হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় এই ধরণের বাজেটকে কেবল বিলাসিতা নয়, উচ্চ বিলাসিতা বলেই মন্তব্য করছেন নাগরিকরা।
চসিকের এবারের বাজেট বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ সালে উন্নয়ন অনুদান, ত্রাণ খাত থেকে সর্বোচ্চ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই খাতে ১ হাজার ৩৩৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল উন্নয়ন অনুদান (সরকারি সাহায্য) খাতেই ১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। যেখানে গত অর্থবছরে এই খাতে ৯৮৫ কোটি ১০ লাখ টাকা লক্ষ্য ধরে আয় হয়েছিল মাত্র ২৬২ কোটি ২৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২৬ শতাংশ।
এদিকে গত অর্থবছরে নিজস্ব উৎসে প্রাপ্তি ধরা হয়েছিলো ১ হাজার ১৯৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সেখানে এই খাতে আয় হয়েছে মাত্র ৩৬৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩০ শতাংশ। এমন অবস্থায় এবার এই খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩ কোটি টাকা কমিয়ে ৯৯৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে গতবারের মতো এবারও উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এই খাতে এবার ১ হাজার ২২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। গতবার এই খাতে ব্যয়ের লক্ষ্য ছিল ১ হাজার ১২১ কোটি টাকা। সেখানে গত এক বছরে চসিক এই খাতে ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র মাত্র ২৫৭ কোটি ৬৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২২ শতাংশ। এছাড়া বকেয়া দেনা পরিশোধে ২০৯ কোটি ৯০ লাখ, স্থায়ী সম্পদ নির্মাণ ও সংস্কারে ২২০ কোটি ও পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ৬৩৪ কোটি ৩১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
বাজেট অধিবেশনে চসিকের কাউন্সিলররা ছাড়াও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবুল হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। চসিকের তৃতীয় নির্বাচিত মেয়র হিসেবে আ জ ম নাছির উদ্দিন তার তৃতীয় বাজেট পেশ করেন। অধিবেশনে গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুমোদন করার পর চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র নাছির।
ইত্তেফাক/ইউবি