ঠাকুরগাঁওয়ে তরুণীর মৃত্যু নি‌য়ে কৌতুহল

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাস্টাস দিয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে না ফেরার দেশে পা‌ড়ি জ‌মি‌য়ে‌ছেন প্রত্যাশা না‌মে এক তরুণী।

স্বামী প‌রিত্যক্তা প্রত্যাশা আক্তার ঠাকুরগাঁও শহরের কলেজে পাড়া এলাকায় থাকতেন। তার বাবা ইয়াসিন আলী বিএডিসি কার্যালয়ের একজন কর্মচারি। প্রত্যাশা আক্তার শহরের সিএম আইয়ূব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেছেন বলে জানা গেছে।


এদি‌কে গত ২৯ জুলাই র‌বিবার এ ঘটনার পর প্রত্যাশার মৃত প্রত্যাশা‌কে নি‌য়ে ফেসবুকে তার বন্ধ‌ু বান্ধব ও শুভাকা‌ংক্ষীরা প্রত্যা‌শিত ও অপ্রত্যা‌শিত বি‌ভিন্ন মন্তব্য কর‌ছেন। যা ভাইরা‌লে প‌রিণত হ‌য়ে‌ছে।

অনেকে প্রত্যাশার মৃত্যুর আগের স্ট্যাটাসটিতে মন্তব্য করেছেন। অ‌নে‌কে আবার শেষ নি:শ্বাস ত্যাগের পর তার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। অনেকেই প্রত্যাশা আক্তারের মৃত্যুর কারণ জানতে চেয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর কাউন্সির দ্রৌপদী আগরওয়াল প্রত্যাশার মৃত্যু নিয়ে লিখেছেন, “প্রত্যাশা আক্তার মেয়েটি খুব কম বয়সে রাজনীতি অঙ্গনে প্রবেশ করেছিল। তার মৃত্যু মেনে নেওয়ার মত না।”

নাম প্রক্যাশে অনিচ্ছুক প্রত্যাশার এক বান্ধবী বলেছেন, কিছুদিন ধরে প্রত্যাশাকে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী বন্ধু নানা ভাবে ব্ল্যাক মেইল করে আসছিল। একটি গোপন ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল সে। সেই থেকে প্রত্যাশা খুব বিচলিত হয়ে পড়ে ও খুব কাছের বান্ধবীদের কাছে পরামর্শ চায়। এরপর সে গত ২২ জুলাই ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ঘুমের ওষুধ খায়। অবশেষে সবাইকে রেখে না ফেরার দেশে চলে যায়।

প্রত্যাশা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় ঠাকুরগাঁও থানাকে অবগত করা হয় নাই বলে থানার তদন্ত ওসি সিফাতুল মাজদার সিফাত জানিয়েছেন। ২৯ জুলাই রবিবার রংপুর থেকে মরদেহ নিয়ে এসে প্রত্যাশার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে দাফনকার্য সম্পাদন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২২ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রত্যাশা আক্তার তার নিজ টাইমলাইনে লিখেছিলেন, “সব বলা হয় তো শেষ হয় না।।। অবশেষে শেষ নি:শ্বাস” (কেউ কমেন্ট করবেন না প্লিজ)। এর পর প্রায় সে ৪০টি ঘুমের ওষুধ খায় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পর প্রত্যাশা আক্তারকে পরিবারের লোক ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ওইদিন রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। দীর্ঘ ৭ দিন রংপুর মেডিকেল কলেজে নিবিড় পর্যক্ষেনের পর ২৯ জুলাই সকালে না ফেরার দেশে চলে যায় প্রত্যাশা আক্তার।

জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ঠাকুরগাঁও শহরের পৌর কাউন্সিলর সাজু’র ছেলে তন্ময়ের সঙ্গে প্রত্যাশা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এরপর তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। অসুস্থতার কারণে কিছুদিন পরে কন্যা সন্তানটির মৃত্যু হয়। গত দুই বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে প্রত্যাশা স্বামীর বাসা ছেড়ে তার বাবার বাসায় থাকতে শুরু করে।

এ বিষয়ে প্রত্যাশার স্বামী তন্ময়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি।

প্রত্যাশার বাবা কাছে মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আমি কিছুই বলতে পারছি না। আমার মেয়ের মৃত্যুতে আমি খুব শোকাহত।

ইত্তেফাক/নূহু