মোহাম্মদপুরের সমস্যা যানজট জলাবদ্ধতা ও পানি সংকট

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একদিকে রয়েছে উচ্চবিত্ত শ্রেণির বাস। অন্যদিকে রয়েছে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির বসবাস। এই এলাকার মানুষ খাবার পানি, যানজট ও জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। একাধিক সড়কে সেবা সংশ্লিষ্ট সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি চলায় যানজটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫ কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন হাউজিং হয়েছে যেসব এলাকায় সেখানে সড়কে কিছু সমস্যা আছে। তবে সড়কের মালিকানা যদি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেয়া হয় তাহলে সমস্যা সমাধান করা যাবে।

২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মোহাম্মদপুর থানার জনসংখ্যা ছিল ৪ লাখের ওপরে। তবে এলাকাবাসীর ধারণা, বর্তমানে সংখ্যাটি প্রায় দ্বিগুণ। এলাকার আয়তন ১২ দশমিক ১৩ বর্গকিলোমিটার।

মোহাম্মদপুর থানার অন্তর্ভুক্ত উল্লেখযোগ্য এলাকা হলো- তাজমহল রোড, আজিজ মহল্লা, টিক্কাপাড়া, বিজলী মহল্লা, জহুরী মহল্লা, বছিলা, ওয়াছপুর, কাটাসুর, জাফরাবাদ, বাঁশবাড়ি, মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটি, চাঁদ মিয়া হাউজিং, মধুবাজার, পশ্চিম ধানমণ্ডি, বিবিবাজার, রায়েরবাজার, সুলতানগঞ্জ, রাজমুশুরী, লালমাটিয়া, আসাদগেট ইকবাল রোড, স্যার সৈয়দ আহম্মেদ রোড, আওরঙ্গজেব রোড, কলেজগেট রোড, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল এলাকা, জেনেভা ক্যাম্প, হুমায়ুন রোড, বাবর রোড এবং খিলজি রোড।

মোহাম্মদপুর থানার বেশ কিছু এলাকার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় অল্প বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। বছিলা, ওয়াছপুর ও কাটাসুরে এই সমস্যা প্রকট। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনকে লিখিতভাবে জানানো হলেও তা কোনো কাজে আসেনি এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মনির হোসেন বলেন, এই এলাকার অনেক মানুষ একটা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে দিনযাপন করছে। রায়েরবাজার এলাকায় রয়েছে কুমারদের বসবাস। ঢাকায় মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্রের সবচেয়ে বড় বাজার এখানে। জলাবদ্ধতার কারণে কুমারদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

শিয়া মসজিদ মোড়, কেন্দ্রীয় কলেজ, তাজমহল রোড প্রধান সড়ক, জাপান সিটি গার্ডেনের সামনে প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকালে যানজটের কারণে ৫ মিনিটের পথ কখনো ১ ঘণ্টা লেগে যায়। এসব এলাকার বিভিন্ন অলিগলি ও সড়কের যত্রতত্র প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহন পার্ক করে রাখায় এ যানজটের সৃষ্টি হয় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। আসাদ এভিনিউ থেকে টাউন হল পর্যন্ত ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে এবং ছুটি হবার পর ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন বলেন, ট্রাফিক আইন মেনে চললে যানজট কিছুটা হলেও কমে আসবে। তাছাড়া স্কুল-কলেজ শুরু হওয়ার আগে এবং ছুটি হবার সময় যদি রাস্তা রিকশামুক্ত করা যায় তাহলে যানজটের ভয়াবহতা কমে যাবে। তাছাড়া রাস্তা সংস্কার করাটাও জরুরি।

মোহাম্মদপুরের বেশ কিছু জায়গায় চলছে খাবার পানির তীব্র সংকট। প্রায় ৮ মাস ধরে এই সমস্যা চলছে। লাইনে কিছু পানি পাওয়া গেলেও সঙ্গে আসছে বালু আর পাথর। ওয়াসা বলছে, পানির পাইপে লিকেজ থাকার পাশাপাশি পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ী, কাটাশুর ও শেরেবাংলা রোডে গত দুই-তিন মাস ধরে চলছে পানির সংকট। মধ্যরাতে আধা ঘণ্টার জন্য পানি আসলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই সামান্য। খাওয়ার জন্য কেনা পানিই ভরসা এলাকাবাসীর। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ওয়াসাকে বারবার বলা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

ইত্তেফাক/নূহু