ঝিনাইদহে সদর উদ্দিন খানকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দাবি সন্তানদের

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার দহকুলা গ্রামের নিহত মুক্তিযোদ্ধা সদর উদ্দিন খান (তোতা)-এর সন্তানরা বাবার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ভারতে যান সদর উদ্দিন খান তোতা। সেখানে ট্রেনিং নিয়ে দেশে ফিরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন। দেশ স্বাধীনের পর গাড়াগঞ্জ বাজারে বেকারি ব্যবসা শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি শৈলকুপা থানার একজন আওয়ামী লীগের কর্মী হিসাবে সাংগঠনিক কাজকর্ম চালাতে থাকেন। সে সময় এলাকায় তত্পর চরমপন্থি সন্ত্রাসী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তিনি। ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার একদিন পর ১৭ আগস্ট রাতে সদর উদ্দিন খানকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের ইন্ধনে সন্ত্রাসীরা কালীনদীর তীরে নিয়ে তাকে জবাই করে হত্যা করে। তার বাড়িতেও লুটপাট চালায় সন্ত্রাসীরা। পরিবারে তিনি একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। ফলে এতিম হয়ে যায় তার সন্তানরা। তার সন্তানরা বাবার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।

ঝিনাইদহ জেলা ডেপুটি ইউনিট কমান্ডার মো. গোলাম রইচ বলেন, সদর উদ্দিন খান ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের ‘ডেরাদুন’ ক্যান্টনমেন্ট মুজিব বাহিনী (বিএলএফ)-এর প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে আমার সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। পরে তার নাম গেজেটভুক্ত হয়নি।

শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মনোয়ার হোসেন মালিতা বলেন, সদর উদ্দিন খান তোতা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার নাম মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য আব্দুল হাই বলেন, সদর উদ্দিন খান তোতা তার সঙ্গে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেছেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি হিসাবে বলেন, তার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু