মানব নাকি দানব!

রাজধানীর বাড্ডায় ছোট্ট শিশু তানহাকে খাবারের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ করেছিল শিপন। ধর্ষণকালে রক্তাক্ত শিশুটি চিত্কার দিলে সেখানেই তাকে হত্যা করে সে। রবিবার গভীর রাতে বাড্ডা এলাকা থেকে ধর্ষক শিপনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের কাছে সে এই পৈশাচিক কাজের কথা স্বীকার করেছে। শিপন এর আগে একটি ডাকাতি মামলায় ৫ বছরের জেল খেটেছে। রাজমিস্ত্রী পরিচয় দিয়ে তানহাদের বাড়ির পাশে সে একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিল। শিপন গ্রেফতার হয়েছে এই খবর পাওয়ার পর তানহার বাবা মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি একবার ওরে জিগাইতে চাই। ও ক্যামনে দুধের বাচ্চাটারে মারল? ওর কী বুকটা একবারও কাঁপল না?’

তানহার বাবা মেহেদী হাসানের ভাড়া করা টিনশেড ঘরের পাশেই আরেকটি টিনশেড বাড়ির একটি কক্ষের ভাড়াটিয়া ধর্ষক শিপন। শিপনকে গ্রেফতারের সময় তার ঘর থেকে রক্তমাখা তোয়ালে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৩ বছর ৯ মাস বয়সী তানহাকে হত্যার পর শিপন ওই তোয়ালে দিয়ে রক্ত মুছে ফেলে।

গতকাল সোমবার দুপুরে ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর  গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, তানহা তার বাবা-মার সঙ্গে ভাড়া থাকত মধ্য বাড্ডার আদর্শনগরের মিনহাজ সাহেবের টিনশেড বাসায়। পার্শ্ববর্তী আমিন সাহেবের টিনশেড বাসায় জাহেদা নামে সম্প্রতি নতুন এক ভাড়াটিয়া এসেছেন। এই জাহেদাকে আন্টি বলে ডাকত তানহা। শিপন সস্ত্রীক ওই বাড়ির একটি ঘরে ভাড়া থাকে। তার স্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিক। তানহা রবিবার বিকাল ৫ টার দিকে জাহেদার বাসা থেকে শিপনের ঘরের সামনে দিয়ে নিজেদের ঘরে ফিরছিল। শিপন তখন খাবারের লোভ দেখিয়ে বাচ্চাটিকে ফুসলিয়ে ঘরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির ছোট্ট শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। বাঁচার জন্য সে চিত্কার শুরু করলে শিপন তার গলা চেপে হত্যা করে। এরপর তার লাশ বাসার টিনশেড বাথরুমের টয়লেটে ফেলে দেয়। পরে রক্তে ভিজে যাওয়া বিছানার চাদর, গায়ের গেঞ্জি ও পরনের লুঙ্গি বালতিতে ভিজিয়ে রাখে শিপন।  তানহার ‘আন্টি’ জাহেদা গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, সে ছিল খুবই হাসিখুশি একটি শিশু। পরিচিত হোক আর অপরিচিত হোক, আদর পেলে সে সবার সঙ্গেই মিশত। তানহাকে তিনি নিজের মেয়ের মতো দেখতেন। অথচ এই নিষ্পাপ শিশুটিকে হত্যা করল মানুষরূপী ওই পিশাচ। তিনি বলেন, অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যেন আর কেউ এ ধরনের জঘন্য কাজ করার সাহস না করে।

এদিকে গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে তানহার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিত্সক ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেন, শিশুটিকে  ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

ছয় দিনের রিমান্ড: পৈশাচিক এই ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় শিপনকে ছয় দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শওকত হোসেন আসামিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এসআই হরলাল মল্লিক সাংবাদিকদের জানান, রিমান্ড শুনানিতে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না।

ইত্তেফাক/নূহু