ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে দোহা রুটে ইউএস-বাংলা ফ্লাইট শুরু ১ অক্টোবর

১ অক্টোবর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে দোহা রুটে ফ্লাইট চালু করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রতিষ্ঠার মাত্র দু’বছরের মধ্যে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে কাঠমান্ডু ছাড়াও কলকাতা, মাস্কাট, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।  
 
আগামী ১ অক্টোবর থেকে সপ্তাহে চারদিন সোম, বুধ, শুক্র ও রবিবার বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬.০০টায় এবং চট্টগ্রাম থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ছেড়ে যাবে এবং দোহার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩০ মিনিটে পৌঁছাবে এবং রাত ১১টা ৩০ মিনিটে দোহা থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে এবং পরদিন সকাল ৮.০০টায় চট্টগ্রামে এবং সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
 
ফ্লাইট উদ্বোধন উপলক্ষে ঢাকা থেকে দোহায় নূন্যতম ভাড়া ওয়ান ওয়ে ২৪ হাজার ৩৮৫ টাকা এবং রিটার্ন ৪০ হাজার ২৬৪ টাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে দোহায় নূন্যতম ভাড়া ওয়ান ওয়ে ২৫ হাজার ৩৫৩ টাকা এবং রিটার্ন ৪১হাজার ২৩৩ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। ভাড়ায় সকল প্রকার ট্যাক্স ও সারচার্জ অন্তর্ভূক্ত।
 
এশিয়ার অন্যতম গন্তব্য দোহা রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিতে পেরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স পরিবার অত্যন্ত গর্বিত। খুব শীঘ্রই হংকং, দিল্লী, চেন্নাই, আবুধাবী, গুয়াংজুহসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। 
 
২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দু’টি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার পর বর্তমানে তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট এবং তিনটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফটসহ মোট ছয়টি এয়ারক্রাফট রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বহরে। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে আরো দুইটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং একটি ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ ইউএস-বাংলা’র বিমান বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। 
 
আগামী বছর বহরে বোয়িং ৭৭৭-২০০ এর মতো বড় এয়ারক্রাফট সংযোজনের মাধ্যমে সৌদি আরবের দাম্মাম, জেদ্দা, রিয়াদে ফ্লাইট শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে ইউএস-বাংলার।
 
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রা শুরু করার পর মাত্র তিন বছরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সেক্টরে ইতিমধ্যে ত্রিশ হাজারের অধিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছে, যা বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরে একটি মাইল ফলক। প্রতি সপ্তাহে বর্তমানে ৩০০টির অধিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইউএস-বাংলা’ই একমাত্র বেসরকারী এয়ারলাইন্স, যা বাংলাদেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে যাত্রী সাধারনের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
 
ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন মাস্কাট এবং ঢাকা থেকে প্রতিদিন কলকাতা, সপ্তাহে ছয়দিন কুয়ালালামপুর, চারদিন সিঙ্গাপুর ও ব্যাংকক ও তিনদিন কাঠমুন্ড রুটে ফ্লাইট চলাচল করছে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে সপ্তাহে দু’দিন কলকাতা রুটে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।
 
এছাড়া প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৬টি, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ২টি, ঢাকা-যশোর রুটে ২টি, ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে ২টি, ঢাকা-সিলেট রুটে ১টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া সপ্তাহে ঢাকা-বরিশাল রুটে ৩টি ও ঢাকা-রাজশাহী রুটে ৪টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। 
 
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রা শুরুর মাত্র তিন বছরের মধ্যেই দেশের বেসরকারী এয়ারলাইন্স গুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে। বর্তমানে ইউএস-বাংলা অভ্যন্তরীণ রুটের শতকরা ৫০ ভাগ যাত্রী এককভাবে পরিবহন করে দেশের আকাশ পথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে সুদৃঢ়। যার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে ইউএস-বাংলা বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন্সের মর্যাদা লাভ করেছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক গন্তব্যে এশিয়ার একটি অন্যতম বিমান সংস্থা হিসাবে পরিচিতি লাভ করার প্রত্যাশায় কাজ করে যাচ্ছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বর্তমানে ৯৮.৭% অন-টাইম পারফরমেন্স নিয়ে বাংলাদেশের স্বীকৃত অন্যতম প্রিমিয়াম এয়ারলাইন্স।
 
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক রুটের বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের জন্য বাসা থেকে পিক-ড্রপ সার্ভিস, ১০ মিনিট ল্যাগেজ ডেলিভারী, সিনিয়র সিটিজেনদের ২০% ডিসকাউন্ট সুবিধা, চট্টগ্রাম ও যশোরে ওয়াই-ফাই যুক্ত শাটল বাস সার্ভিস রয়েছে। রয়েছে ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ারদের জন্য স্কাইস্টার প্রোগ্রামসহ নানাবিধ আন্তর্জাতিক মানের সেবা।
 
টিকেট রিজার্ভেশন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন- ০১৭৭৭৭৭৭৮০০-৯।