ফেসবুকে বন্ধুত্বের সূত্র ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক তরুণীকে (২৫) রাজশাহী নগরীর একটি গেস্ট হাউজে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় ছাত্রীটি রাজশাহী নগরীর শাহ মখদুম থানায় গিয়ে মামলা করেন।
ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী রাজশাহীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ ঘটনায় বাগমারার এক কলেজ শিক্ষকসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাগমারার মচমইল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক শামসুল আলম ওরফে বাদশা (৪৫) ও তার সহযোগী আবুল খায়ের ওরফে নাহিদ (২৬)। এদের মধ্যে শামসুল আলম বাদশা ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনলজি অ্যান্ড সায়েন্স রাজশাহী শাখার সাবেক শিক্ষক ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত শামসুল আলম ওরফে বাদশা রাজশাহী নগরীর শিরোইল এলাকায় ভাড়া থাকেন। তার সহযোগী আবুল খায়ের নাহিদ কম্পিউটার ব্যবসায়ী। নগরীর রেলগেট এলাকায় ইজি টাচ নামের কম্পিউটারের একটি শো-রুম রয়েছে তার। অপরদিকে ধর্ষিত ওই তরুণীর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে কলেজ শিক্ষক বাদশার সঙ্গে প্রায় চার বছর আগে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। এরপর দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর আগে একবার বাদশার সঙ্গে রাজশাহী এসে দেখাও করেন ওই তরুণী। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিত্সা করাতে এসে বাদশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এরপর বাদশা মোবাইল ফোনেই তাকে তার বন্ধু নাহিদের কম্পিউটারের শো-রুমে যেতে বলেন। এরপর ওই তরুণীকে বাদশা তার বন্ধু নাহিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
মামলার এজাহারে আরো বলা হয়, সোমবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে দুপুরের খাবারের কথা বলে নাহিদের প্রাইভেটকার যোগে ওই তরুণীকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় গ্রীন গার্ডেন রেস্ট হাউজে। সেখানকার দোতলার একটি কক্ষে ওই তরুণী এবং বাদশাকে রেখে নাহিদ খাবার কেনার কথা বলে চলে আসে। এরপর বাদশা ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। এর কিছুক্ষণ পরে নাহিদ ঘরে প্রবেশ করে। তখন বাদশা ওই তরুণীকে রেখে চলে যায়। এরপর নাহিদও জোর করে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে ওই কক্ষে ফেলে রেখে চলে যায়। দুইজনের দ্বারা পরপর ধর্ষণের শিকার হয়ে ওই তরুণী সন্ধ্যায় গ্রীন গার্ডেন থেকে বের হয়ে একটি রিকশা করে নগরীর শাহ মখদুম থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
শাহ মখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, ওই নারী থানায় আসার পরে তাকে দেখেই আমরা ধারণা করতে পারি, তিনি ধর্ষিত হয়েছেন। এরপর তার কথামতো অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ গ্রহণ করার পরে সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। আসামিদের পরের দিন মঙ্গলবার ভোরের দিকে গ্রেফতার করা হয়। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তরুণীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু