এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীতে ফের জলাবদ্ধতা

বৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফের জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। গতকাল বুধবার মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিপাতে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।

অবশ্য ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান দাবি করেন, গতকালের জলাবদ্ধতা তেমন মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পানি নেমে গেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে তার দপ্তর নিরলসভাবে কাজ করেছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টির পানি ধারণের ক্ষমতা নগরীর নেই। তাই সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ঢাকা ওয়াসা একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগরীতে জলাবদ্ধতা আর থাকবে না বলে তিনি জানান।

গতকালের  বৃষ্টিপাতে রাজধানীর সদরঘাট, ইসলামপুর, নয়াবাজার, মিটফোর্ড এলাকা, নাজিরা বাজার, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, বংশাল, ধোলাইখাল, মৈশুন্ডি, ওয়ারী, যোগীনগর, বনগ্রাম লেন, গোপীবাগ, টিকাটুলী, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, জুরাইন, ফরিদাবাদ, বাসাবো, ও গুলিস্তানসহ আশপাশের এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেক বাসা বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে।

এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাতে নগরীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল, পল্টন, নয়াপল্টন এলাকা তলিয়ে যায়। বনানী, মহাখালী এলাকাতেও সড়কে পানি উঠে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বৃষ্টিতে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের ভেতর পানি জমা হয়। এতে করে সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিপাকে পড়েন। অনেকে জুতা-মোজা খুলে পানিতে নামেন।

রাজধানীতে জলজটের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যে দুর্ভোগ দেখা দেয়, সেটি হলো যানজট অথবা যান চলাচলে ধীরগতি। সড়কের একটি অংশ পানিতে ডুবে থাকায় সড়কের পানিশূন্য অংশে যানবাহন চলে ধীরগতিতে। এতে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

গতকাল ভোরে এক দফা বৃষ্টি হয়েছিল রাজধানীতে। তবে সকালে বৃষ্টি ছিল না। অফিসগামী মানুষ নির্বিঘ্নেই বের হয়েছে ঘর থেকে। আকাশে মেঘ থাকলেও কড়া রোদ ছিল কয়েক ঘণ্টা। কিন্তু দুপুরের আগে কালো মেঘে ঢাকা পড়ে আকাশ। আর দুপুর দেড়টার দিকে নামে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। থামতে থামতে বেলা আড়াইটা। অর্থাত্ এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে দুপুরে বৃষ্টি হয়েছে ২৪ মিলিমিটারেরও কম। আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস জানান, দুপুর ১২টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে ২৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার।

গত ২৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৬ জুলাই দুপুর পর্যন্ত রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে অস্বাভাবিক। আর এই  বৃষ্টিতে নগরীর একটি বড় অংশ তলিয়ে যায়।  ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তা সিটি করপোরেশনের আয়ত্বের মধ্যে থাকে।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তাছাড়া নগরীর মধ্যদিয়ে প্রবাহমান খালগুলো হারিয়ে গেছে। এই দখলকৃত খালগুলো উদ্ধার করতে না পারলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার জন্য নগরবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, জলজট নিরসনে সিটি করপোরেশন, ওয়াসা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়হীনতার কথাও এসেছে। নগরীর পানি নিষ্কাশনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড নগরীর চারপাশে জমে থাকা পানি পাম্প করে নদীতে ফেলে। সেখানে পানি যেতে যে খাল ও নালা রয়েছে, সেগুলো ভরাট বা বেদখল হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক গতিতে পানি নামতে পারছে না।

ইত্তেফাক/নূহু