কলেজছাত্রীকে ৭ মাস আটকে রেখে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেফতার

 
টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক কলেজছাত্রীকে প্রায় সাত মাস আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনার মূলহোতা ও প্রধান আসামি বাদল মিয়া ওরফে বাদল বাবুকে মামলা হওয়ার চারদিন পর গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জেলার মির্জাপুর উপজেলা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। 
 
এদিকে, বুধবার ও শুক্রবার ধর্ষককে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অশোক কুমার সিংহ ও সখীপুর থানার ওসি মাকছুদুল আলম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মির্জাপুরের একটি এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের বিশেষ দল বাদলকে গ্রেফতার করে টাঙ্গাইলের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।  
        
জানা গেছে, সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নে প্রতিবেশী দূর সম্পর্কের চাচা বাদল ওরফে বাদল বাবু পূর্ব পরিকল্পিকভাবে গত ১১ জানুয়ারি ভাতিজি কলেজছাত্রীকে (১৭) ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুজির পরও ওই কলেজ ছাত্রীর কোনো খোঁজ পাননি। অবশেষে গত রবিবার বিকেলে দীর্ঘ ৬ মাস ১৭ দিন পর রতনপুর কাশেম বাজার এলাকায় চাচা বাদল মিয়ার পরিত্যক্ত ঘর থেকে ওইছাত্রীকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে এলাকাবাসী। আটক রাখা অবস্থায় ওই ছাত্রীকে ঘুমের ওষুধ ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবন করিয়ে ধর্ষণ করে আসছিল বাদল মিয়া। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই এলাকার মৃত দরবেশ আলীর ছেলে বাদল মিয়াকে আসামি করে ধর্ষিতার ভাই বাদী হয়ে সখীপুর থানায় অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। 
 
বৃহস্পতিবার ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে গুরুতর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাইনী বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই কলেজছাত্রী। এদিন বিকেলে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু আদালতের হাকিম রূপম কান্তি দাস কিশোরীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। 
 
মানবাধিকার সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। 
 
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাকছুদুল আলম বলেন, মামলার পর থেকেই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুক্রবার মির্জাপুর উপজেলা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে টাঙ্গাইল ডিবি’র হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধর্ষণ ঘটনার মূল রহস্য বের করা হবে। 
 
ইত্তেফাক/কেকে