পিরোজপুরের কাউখালীর সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ৯নং শির্ষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই প্রবহমান খাল। প্রতিদিন সেই খালের স্বাভাবিক জোয়ারের পানি হু হু করে প্রবেশ করে বিদ্যালয়ের চারপাশ ডুবিয়ে দেয়। যখন জোয়ারের প্লাবন অস্বাভাবিক হয় তখন শ্রেণি কক্ষের মেঝেতে পানি ছুঁই ছুঁই করে। তাই প্রতিদিন জোয়ার এলেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যেন পানিবন্দি হয়ে পড়ে। প্রতিদিন বিদ্যালয় আঙিনার চারপাশ জোয়ারের প্লাবনে ২/৩ ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। বিদ্যালয়ে এসে প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫ গজ দূরে শির্ষা খালের অবস্থান। সেখানে কোনো বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিদিন খাল উপচে সহজেই জোয়ারের পানি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। স্কুল জোয়ারের পানিতে তলিয়ে থাকায় বাথরুমও ব্যবহার করা যায় না।
১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ১৩৬ বছরের পুরোনো এই বিদ্যালয়টি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়টি পুনরায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ দিনেও সংস্কার না হওয়ায় এখন জরাজীর্ণ হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ছাদের প্লাস্টার খসে পড়েছে। তা ছাড়া সমতল ভূমিতে মাটির উঁচু ভিত্তি ছাড়া স্কুলের পাকা ভবন নির্মাণ করায় পার্শ্ববর্তী খালের স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে স্কুলের আশপাশ প্রতিদিন জলমগ্ন হয়। পাঁচজন শিক্ষক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীর নিয়মিত পাঠদান করছেন।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মৌসুমী আক্তার জানান, স্কুলের পার্শ্ববর্তী খালের পাড়ে কোনো বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিদিন স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে স্কুলের চারপাশ ডুবে থাকে। এতে শিশুদের চলাচলে সমস্যা হয়।
প্রধান শিক্ষক মোঃ নাসির উদ্দিন জানান, স্কুল ভবন সমতল ভূমিতে নির্মাণ করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয় পানিবন্দি থাকা অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যা হয়।
শির্ষা ক্লাস্টারে দায়িত্বরত উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসকে জাবিদ হোসেন জানান, স্কুলটি সমতল ভূমিতে হওয়ায় পার্শ্ববর্তী খালের স্বাভাবিক জোয়ারের পানি সহজেই স্কুল মাঠ ও চারপাশ প্লাবিত হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গমনাগমনসহ পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু