হেলে পড়েছে দোতলা ভবনের ছাদ ভাঙন ঠেকাতে বাঁশের খুঁটি!

৬০ বছরের পুরোনো যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের একটি দোতলা ভবনের ছাদ ও গ্রিল হেলে পড়েছে। আর সেই ভবনেই আতঙ্ক নিয়ে চিকিত্সা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গণপূর্ত অধিদপ্তর ভবনটিকে ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করে ছাদের ভাঙন ঠেকাতে বাঁশের খুঁটি টাঙিয়ে দিয়েছে। শিগগিরই তারা সংস্কার কাজ শুরু করবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেছে। ভবনটির দোতলায় মহিলা মেডিসিন এবং নিচে সার্জারি ওয়ার্ডের শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. কামরুল ইসলাম বেনু জানান, ‘১৯৫৬ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৭ সালে প্রথম দোতলার প্লাস্টার ভেঙে পড়ে। তখন থেকে প্রতিবছর ভবনটি গণপূর্ত বিভাগ সংস্কার করে আসছে। ২০১৩ সালে ফের ভবনটি দোতলার দুই পাশ খসে পড়ে। তখনো এটা মেরামত করা হয়। সর্বশেষ ৩০ জুলাই রাউন্ডে গিয়ে দোতলার মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের টপ ওয়াল ও গ্রিল হেলে পড়া দেখি। ওইদিনই গণপূর্ত বিভাগকে ফোন করি এবং চিঠি লিখি। তারা পরিদর্শনে এসে আমাদের আশ্বস্ত করে এখানে রোগী রাখা যাবে এবং আশু দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই। শনিবার তারা এসে নিচতলার ছাদে বাঁশের খুঁটি লাগিয়ে গেছে। এটা দেখে আমাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আর সতর্কতা হিসেবে বারান্দার রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং রবিবার একটি সতর্ক সংকেত আমরা জারি করেছি।’

গতকাল রবিবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ছাদে এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেখানে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর দায়িত্ব শেষ করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। কিন্তু এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে আবারো গতকাল বিভাগটির নির্বাহী প্রকৌশলীকে হাসপাতাল পরিদর্শনের অনুরোধ করেন হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক। কিন্তু ‘কোনো সমস্যা নেই’ বলে বিভাগটির কোনো প্রতিনিধি হাসপাতালে যাননি। এরপর হাসপাতাল থেকে ‘বিপদমুক্ত’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে লিখিত প্রতিবেদন চাওয়া হলেও গতকাল দুপুর পর্যন্ত তা পাননি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে। সবশেষ সতর্কতা হিসেবে বাঁশের খুঁটিতে একটি ‘সতর্ক সংকেত’ টাঙিয়ে দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে লেখা আছে: ‘রোগীসহ রোগীর লোকজন বাথরুমে যাবে বামপাশ দিয়ে। কারণ ডানপাশ ঝুঁকিপূর্ণ।’ কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সতর্কতা সংকেতকে কেউ তেমন আমলে নেননি। দুপুরে সেখানে দেখা গেল খুঁটির পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলছেন শহরের ঘোপ এলাকার বাসিন্দা হানিফ পরিবহণের চালক আল আমীন। তিনি জানান, ছেলে ফিরোজের (১৫) হাত কেটে যাওয়ায় গত ১১ দিন এখানে রেখে চিকিত্সা দিচ্ছেন। ভয় লাগলেও কিছু করার নেই বলে জানান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শহরতলির বাহাদুরপুর এলাকার কৃষক মোঃ নূর ইসলাম বলেন, ‘দেয়াল ফাটে যাওয়ার জন্যি ভয়তে আছি।’

ক্যাজুয়াল ওটির ওয়ার্ডবয় শামসুর রহমান বলেন, ‘বাঁশ কী ভাঙন ঠেকাতে পারে? ভয়ের মধ্যে আছি কখন কী হয়।’জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী ফ্রান্সিস ডি কস্তা বেনাপোলে গেছেন। তার মোবাইলে কল দিয়ে এবং বার্তা পাঠিয়েও জবাব পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/নূহু