মনে হয়, এই তো সেদিনের কথা। নাফীস ইকবালের ছোট ভাই এলেন টেস্ট ক্রিকেটে। কিন্তু সেদিনের কথাটাই দেখতে দেখতে দশ বছরের বেশি সময় আগের কথা। এর মধ্যে তামিম ইকবাল পার করে ফেলেছেন অনেক পথ। তবে বাংলাদেশের টেস্ট খেলা কম হয় বলেই এই এক দশকের ঢের বেশি সময় পার করে তবে তামিমকে খেলতে হচ্ছে পঞ্চাশতম টেস্ট।
বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তামিম বলেছেন, ৫০ টেস্টের এই উপলক্ষটা দেশের জন্য ভালো কিছু হলেও তার জন্য উপভোগ্য হবে, ‘দেশের হয়ে ৫০টি টেস্ট খেলা অনেক বড় অর্জন। একটা সময় যখন এক-দুই বছরে ২-৩টি টেস্ট খেলতাম, মনে হতো যে ক্যারিয়ার শেষে ৫০ টেস্ট হবে তো! অবশেষে হচ্ছে। আশা করি, ৫০তম টেস্ট স্মরণীয় হবে আমার জন্য, দলের জন্য। তাহলেই মাইলফলকটা স্পেশাল হবে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পঞ্চাশতম টেস্ট খেলবেন তামিম ও সাকিব দু জনই। তিনি নিশ্চিত, তার বন্ধু সাকিবও একইভাবে ভাবছেন যে, দলের কোনো একটা অর্জন চাই, ‘আমার জন্য যতটা স্পেশাল, ওর জন্যও নিশ্চয়ই ততটা স্পেশাল হবে। আমি নিশ্চিত, ওরও চাওয়া থাকবে যেন ওর পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ জিততে পারে। চাইবে স্মরণীয় করে রাখতে।’
তামিম যে সময়ে ৫০ টেস্ট খেলছেন, এই সময়ে বাইরের দেশের অনেকে শত টেস্ট খেলে ফেলেছেন। এ নিয়ে একটু আফসোস তামিমেরও আছে, ‘আমাদের অন্তত ৭৫-৮০ টেস্ট ম্যাচ হওয়া উচিত ছিল। একটা সময় আমরা অনেক কম খেলতে পেরেছি। এখন তবু আগের চেয়ে একটু বেশি টেস্ট আমরা পাচ্ছি। আশা করব, গত ১০ বছরে আমরা যত টেস্ট খেলেছি, আগামী ৬ বছরে যেন তার চেয়ে বেশি টেস্ট খেলতে পারি। অন্তত ১০০ টেস্ট যেন খেলতে পারি।’
খেলার সংখ্যাটা নিজের হাতে নেই। তবে নিজের হাতে আছে খেলার মানটা। তামিম আত্মবিশ্বাসের সাথে বললেন, এই মানটা আরো বাড়ানোর চেষ্টায় আছেন তিনি, ‘তবে নিজের স্ট্যান্ডার্ড আমি এখানেই রাখতে চাই না। টেস্ট গড় নিতে চাই ৪৫ থেকে ৫০ পর্যন্ত। এটা আমার লক্ষ্য। জানি, অনেক পথ বাকি। আমার ইনিংসগুলোকে সেঞ্চুরিতে নিতে হবে। শুধু সেঞ্চুরি নয়, বড় সেঞ্চুরি করতে হবে।’
এমনিতে দেশের সব ধরনের টেস্ট বা ওয়ানডে ব্যাটিং রেকর্ড তারই ছিলো। কিন্তু কিছুদিন আগে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা খেলে ফেলেছেন সাকিব। রেকর্ডের লোভী নন। কিন্তু এই রেকর্ডটা তামিম ফিরিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেই বললেন, ‘অবশ্যই রেকর্ডটি ফিরিয়ে নিতে চাই, কেন নয়! দলের অন্যরাও হয়ত চায় নিজের করে নিতে। তবে রেকর্ডের জন্য লোভী নই, স্রেফ একটা লক্ষ্য ঠিক করা। ‘ভাঙতেই হবে’ হবে ধরনের জেদ নয়। কারণ সেটা হলে ইগো চলে আসবে, চাপ আসবে। বুঝতে হবে যে আমার একজন সতীর্থ একটি স্ট্যান্ডার্ড বেধে দিয়েছেন, আমাকে আরো অনেক পরিশ্রম করতে হবে সেই স্ট্যান্ডার্ড স্পর্শ করতে। আমি চেষ্টা করব কষ্ট করেই অর্জন করতে। এটা নিয়ে যে দিনরাত ভাবছি বা ঘুম হারাম হচ্ছে, তা নয়। তবে লক্ষ্য আছে।’
ইত্তেফাক/এমআর