সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেন এর প্রচেষ্টায় উপজেলাব্যাপী সরকারি রাজস্ব আয় বৃদ্ধিসহ তালার সার্বিক উন্নয়নে গতি ফিরে পেয়েছে। দুর্নীতি-অনিয়ম, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কারণে তালার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেমন উন্নয়ন ঘটেছে, তেমনই সরকারি সম্পদ দখলকারী, মাদকসেবী, দালালসহ কুচক্রী মহলের চোখের কাটায় পরিণত হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
প্রায় ১৫ মাস আগে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাদক, জুয়া ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন। অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ না করায় ইতিমধ্যে নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে একটি দালাল চক্র।
যোগদানের সময় তিনি সুধী সমাবেশে ঘোষণা দেন-‘অফিস পাড়ায় কোন দালাল থাকবে না। মাদক ও জুয়াড়ি মুক্ত করা, বিনোদনের জন্য তৈরি হবে ইকো পার্ক, ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সরকারি সম্পদ উদ্ধারসহ জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষাসহ তালাবাসিকে ভিক্ষুক মুক্ত করা হবে।’
কথা রেখেছেন তিনি। মাদক ও জুয়াড়ি নির্মূল এবং দালালমুক্ত করেছেন সেটেলমেন্ট অফিস। বর্তমানে সেটেলমেন্ট অফিসে টাঙানো হয়েছে সাইনবোর্ড। বোর্ডে লেখা আছে, ‘প্রকৃত কাগজ যার, জমি তার।’ এতে মুখ শুকিয়ে যায় ভূমিদস্যূদের। এছাড়া জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে পুলিশের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তিনি। ইতিমধ্যে তিনি শতাধিক অপরাধীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শাস্তি প্রদান করেছেন। যাদের অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবী। এছাড়া সম্প্রতি তালার গরুর হাটটি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করে রাজস্ব খাতে এনেছেন। তালার উন্নয়নে প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার জন্য কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্প সমন্বয় করে টিআরএম এলাকা ও পানি নিষ্কাশনের জন্য বিভিন্ন খালের থাকা বাঁধ, নেট-পাটা অপসারণ করেছেন তিনি। কঠোর হস্তে জালিয়াতির আখড়ায় পরিণত হওয়া তালা সেটেলমেন্ট অফিস থেকে দালাল উচ্ছেদ করে যেমন সর্ব সাধারণের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তেমন কুচক্রী মহলের আক্রোশের শিকার হয়ে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। আয়ের উৎস বন্ধ ও গডফাদারদের কথা না শোনায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন তারা। তাকে বদলী করাতে লক্ষ টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন ঐ দালাল চক্র ও তাদের গডফাদাররা। তারা ইউএনও কে বদলী করতে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ভুয়া অভিযোগ দিয়েছেন।
তালা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন জানান, উপ-শহরের গরুর হাট ও মাছ বাজার অবৈধ দখলমুক্ত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তাঁর বিচক্ষণতায় তালার সাধারণ মানুষ বর্তমানে শান্তিতে রয়েছে। তবে দখলবাজরা বিপাকে পড়ে নানা ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেন জানান, তালা উপজেলায় যোগদানের পর থেকে সেটেলমেন্ট ও ভূমি অফিস থেকে দালালমুক্ত করা হয়েছে। ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি গোপালপুর গ্রামে বিনোদনের জন্য ইকোপার্ক নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদের জমি উদ্ধার ও অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু সেটেলমেন্ট অফিসের ৩২ দালাল, অবৈধ বালি ও মাটি উত্তোলনকারী, মাদক ব্যবসায়ীসহ অনেকে অবৈধ সুবিধা চেয়ে না পেয়ে তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়। এছাড়া সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের জায়গা দখল করে অবৈধ ঘর নির্মাণের অভিযোগে হারান সাধু নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম ভাঙ্গিয়ে দুই ব্যবসায়ীর কাছে থেকে চার লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে মীর জাকির হোসেন ও তরিকুল ইসলামের নামে মামলা করায় তারা আমাকে (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) বদলী করতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়।
তিনি আরো বলেন, তালা বাজারে এখনও প্রায় ১২ একর সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে ঘর-বাড়ি, দোকান ও অফিস পরিচালনা করে আসছে একটি মহল। তারা উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অবৈধ নিয়োগে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে নাশকতা মামলার আসামিদের উৎসাহিত করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁর কাছে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ সুবিধা চেয়ে না পেয়ে মহলটি এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ