খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য ৪৪০ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটের রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ১৩হাজার টাকা এবং সরকারি অনুদান ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৫ কোটি ৭৯ লাখ ৭৫হাজার টাকা। বৃহস্পতিবার দুপুরে কেসিসি’র শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এ বাজেট ঘোষণা করেন।
গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৬৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। সংশোধিত আঁকারে তা দাঁড়িয়েছে ২৪৬ কোটি ৫২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। যার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৫৬.৫৪শতাংশ ।
বাজেটের মূল্য বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ বাজেটে নতুন কোন করারোপ করা হয়নি। বকেয়া পৌরকর আদায়, নবনির্মিত সকল স্থাপনার ওপর প্রচলিত নিয়মে কর ধার্য এবং নিজস্ব আয়ের উৎস সম্প্রসারণের মাধ্যমে করপোরেশনের আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এছাড়া স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে মুক্তিযোদ্ধারের বসতবাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স আগের মতই সম্পূর্ণ মওকুপ করা হয়েছে।
বাজেটকে উন্নয়নমুখী আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এ বাজেটে শহরের ভৌত অবকাঠামো, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বাজেটে নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও সেবার মান উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এছাড়া বাজেটে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, পার্ক, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং কেসিসি’র বিভিন্ন দপ্তর আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনাসহ সামাজিক উন্নয়ন ও নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, বাজেটে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে মশক নিধন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যে ক্ষতি নিয়মিত হচ্ছে তা মোকাবিলা, অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদেও স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার দিক নির্দেশনা এ বাজেটে আছে।
কেসিসি মেয়র জানান, কেসিসির নিজস্ব সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে রাজস্ব তহবিল হতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে মোট ৫৮ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। উক্ত বরাদ্দ হতে পূর্ত খাতে ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ভেটেরিনারি খাতে ২৫ লাখ টাকা, জনস্বাস্থ্য খাতে ৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, কঞ্জারভেন্সি খাতে ১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং মহানগরীতে বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি পানির চাহিদা মেটানোর জন্য এ খাতে এক কোটি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন দাতা সংস্থার ১০টি অনুমোদিত প্রকল্প চলমান রয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসব প্রকল্পে ১৮৮ কোটি ছয় লাখ ৭৫ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির অর্থ ও সংস্থাপন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কাউন্সিলর শেখ মো. গাউসুল আজম। এ সময় কেসিসির প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, কেসিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/রেজা