উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে সুপারিশ

 
জলবায়ু অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা অর্জন কৌশল বিষয়ক ভোলায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় জলবায়ু তহবিলের টাকায় উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের বেঁচে থাকার জন্য টেকসই প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
 
সভায় বলা হয় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন ১২ মাসই এতদাঞ্চলের নদী সমূহ ভাঙন চলছে। সহায় সম্বল হারিয়ে এখানকার মানুষ ক্রমশই উদ্বাস্তু হয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু ট্রাস্টের টাকায় অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে কিন্তু এর কোন সমন্বয় নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
 
সমুদ্রে লোনাপানি বেড়ে যাওয়ায় উপকূলের চর সমূহে বসবাসকারী মানুষরা সীমাহীন সমস্যায় আছেন। সেখানে মিঠাপানির জন্য পুকুর এবং গবাদি পশুর জন্য মাটির কিল্লা নির্মাণ অতীব জরুরি কিন্তু জলবায়ু প্রকল্পের টাকায় তা না করে পৌর এলাকায় রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। বক্তারা বলেন পৌর এলাকায় রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করা হবে তা ১০ নম্বর সিরিয়ালে।
 
প্রথমে এতদাঞ্চলের নদী ভাঙন রোধ, ভাঙন কবলিত নিঃস্ব মানুষদের পুনর্বাসন, এখানকার বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম চর সমূহে সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন এবং মিঠাপানির জন্য পুকুর, দিঘি খননসহ প্রয়োজনীয় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। সেই সাথে এখানকার মানুষদের জীবিকা নির্বাহের জন্য টেকসই প্রকল্প গ্রহণ করে তাদের নিশ্চিন্তে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
 
অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে বজ্রপাত বেড়ে গেছে। ঝড় জলোচ্ছ্বাস ও বজ্রপাত মোকাবেলায় অধিক বনায়নের পাশাপাশি প্রচুর সংখ্যায় তালগাছ রোপণের সুপারিশ করা হয়।
 
বৃহস্পতিবার ভোলা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুব্রত কুমার শিকদার, দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ মিরর সম্পাদক আহাদ চৌধুরী তুহিন, সিপিপি'র উপ-পরিচালক মো. সাহাবুদ্দিন মিয়া,সাংবাদিক মোকাম্মেল হক মিলন, নেয়ামত উল্লাহ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন ভোলা সদর নাগরিক সংগঠনের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম। ইউকে এইড, ব্রিটিশ কাউন্সিলের অর্থায়ন ও সহযোগিতায় মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট। সভায় সরকারি বিভিন্ন দফতরের প্রধান, নাগরিক সমাজ প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
 
ইত্তেফাক/জামান