মহাস্থান ব্রিজে ফাটল, যোগাযোগ হুমকিতে উত্তরাঞ্চল

 
বগুড়া-রংপুর মহাসড়কে করতোয়া নদীর উপর মহাস্থান ব্রিজে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের আট জেলার যোগাযোগ হুমকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে সড়ক বিভাগ ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ব্রিজের উপর দিয়ে ভারি যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। 
 
ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ফলে যানবাহনগুলো ১০ কিলোমিটার ঘুরে শিবগঞ্জ উপজেলা সদর হয়ে মোকামতলায় গিয়ে মহাসড়কে উঠছে। এতে রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, জয়পুরহাট ও কুড়িগ্রামের যানগুলোকে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। ১০ কিলোমিটার সরু সড়ক দিয়ে ভারি যান চলাচল করায় যানজটের পাশাপাশি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। করতোয় নদীতে ব্রিজের নীচ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ব্রিজের পিলার দেবে ফাটল ধরেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবী করছেন।
 
বুধবার সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা ব্রিজের মাঝে দেবে যাওয়ার বিষয়টি পুলিশ ও সড়ক বিভাগকে জানায়। রাতেই পুলিশ ও সড়ক বিভাগের লোকজন ব্রিজটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে লাল পতাকা উড়িয়ে দেন। এছাড়াও ব্রিজের উভয় প্রান্তে ভারি যান চলাচল বন্ধ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড দেয়া হয়।
 
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ব্রিজের তলদেশে গার্ডারে ফাটল ধরেছে এবং ব্রিজের উপরিভাগে মাঝামাঝি ৬ ইঞ্চি দেবে গেছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবত বালু ব্যবসায়ীরা ব্রিজের নীচে পিলারগুলোর কাছ থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে। আর একারণেই পিলার দেবে গিয়ে ব্রিজে ফাটল দেখা দিয়েছে। তারা আরো জানান, সরু এই ব্রিজটি প্রশস্ত না করার কারণে মাঝে মাঝেই দুর্ঘটনা ঘটে। কিছুদিন আগে রেলিং ভেঙে যাওয়ায় ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। পরে রেলিং মেরামত করা হলেও ব্রিজের আর কোন সংস্কার করা হয়নি। ব্রিজটি সরু হওয়ার কারণে গত দেড় বছরে দুর্ঘটনায় পাঁচজনের প্রাণহানী ও কমপক্ষে ৫০জন আহত হয়েছে এই ব্রিজের উপর।
 
বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামন জানান, সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীগণ ব্রিজটি পরিদর্শন করেছে। ব্রিজের একটি গার্ডারে ফাটল দেখা দিয়েছে। নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেই পিলার দেবে গিয়ে এই ফাটল দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান। ফাটল দেখা দেওয়ার পর পুলিশ গিয়ে লাল পতাকা ও বিকল্প পথে চলাচলের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে।
 
তিনি আরো জানান, ঢাকা থেকে দুই বিশেষজ্ঞ বগুড়ায় আসছেন তারা পরিদর্শন করে সিদ্ধান্ত দেয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বগুড়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক সালেক উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিকভাবে ভারি যান চলাচল বন্ধ করে বিকল্প পথে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এদিকে বিকল্প পথটি সরু হওয়ায় যানজট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/জামান