বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা আলোচনা ও স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা

বেগম ফজিলাতুন্নেছা ছিলেন মহীয়সী নারী

প্রত্যেক সফল পুরুষের পেছনে থাকেন একজন নারী। সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফলতার পেছনে যার অবদান তিনি হলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা। জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধুর জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে কারাগারে, রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ব্যস্ততায়। নানা দুঃসময়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা পুরো পরিবারকে নিয়ে সংগ্রামী জীবন যাপন করেছেন।নিজের সন্তানদের যেমন মানুষ করেছেন তেমনি সেই সময়ে আওয়ামী লীগের ছেলে মেয়েদেরকেও স্নেহ করেছেন। নিজ হাতে খাইয়েছেন। শত কষ্টের মাঝেও বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণা দিয়ে গেছেন। শুধু একজন মহীয়সী নারী পারেন এভাবে সবকিছু আগলে রাখতে।
 
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা ও স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সতীর্থ-স্বজন এই আলোচনা ও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দৈনিক ইত্তেফাক এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় সংসদের হুইপ মাহবুব আরা গিনি, সংসদ সদস্য কবি কাজী রোজী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাইদুর রহমান প্যাটেল প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. জিনাত হুদা। 
 
মাহবুব আরা গিনি বলেন, আমি বঙ্গমাতাকে নিজ চোখে দেখিনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তার অনেক গল্প, অনেক সংগ্রামের কথা শুনেছি। তিনি তার বাবা মায়ের গল্প বলতে বলতে অঝোরে কেঁদতেন। বাবা আর মায়ের আদর্শকে সামনে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশের মানুষের সেবা করে যাচ্ছে।
 
কাজী রোজী বলেন, বঙ্গমাতাকে আমি দেখেছি। তার হাতের রান্না খেয়েছি। তিনি শুধু বঙ্গমাতা নন, রত্নগর্ভা মা। তার জীবন সংগ্রামের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আমি মনে করি বঙ্গমাতার জীবন সংগ্রামের কথা বই আকারে আসা উচিত। কারণ তিনি মহীয়সী নারী। 
 
শফিকুর রহমান বলেন, দূর্ভাগ্য আমাদের যে বঙ্গমাতার মত মহীয়সী নারীকে স্মরণ করতে গিয়ে আমাদেরকে শোকার্ত থাকতে হয়। এমন দিনে আমাদের কেক কেটে আনন্দ করার কথা ছিল। কিন্তু শোকের মাস। ৭৫-এর ঘাতকরা এতটাই নৃশংস ছিল যে তারা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুসহ বঙ্গমাতাকেও হত্যা করে।
 
তাসমিমা হোসেন বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আমাদেরকে অনেক কিছুর শিক্ষা দিয়ে গেছেন। পরিবারের কর্তা না থাকলেও পরিবারকে কিভাবে একীভূত করে রাখতে হয় তা তিনি আমাদের শিখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সমস্ত পরিবারের দায়িত্ব তিনি নিতেন। ১৯৪৯ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু বারে বারে কারা করণ করেছিলেন। সেই পুরুষের পেছনে শক্তি যুগিয়েছিলেন একজন শক্তিশালি নারী; তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা। 
 
মূল প্রবন্ধে ড. জিনাত হুদা বলেন, ৬৮সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে একনম্বর আসামী করে মামলা হয়। তখন আওয়ামী লীগের অনেক বড় অভিজ্ঞ নেতারা বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে জেল থেকে বেড়িয়ে আসার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বেগম ফজিলাতুন নেছা সকল রাজনৈতিক নেতার মতের বাইরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি না নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ছিলেন। এতে করে বোঝা যায় তিনি বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কতটা অনুপ্রাণিত করেছিলেন
 
পিযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় এই আয়োজনের শুরুতেই ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকান্ডে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মোড়ক উন্মোচন করা হয় ‘সতত প্রেরণাদায়ী বঙ্গমাতা’ শীর্ষক একটি গ্রন্থের। 
 
ইত্তেফাক/রেজা