শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার দুপুরে আগুন লেগে প্রায় দেড় ঘণ্টা সকল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট পৌনে এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। বিকেল ৪টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঘটনা তদন্তে দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, আগুন লাগার সময় আন্তর্জাতিক রুটের কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। তবে আগুনের ঘটনায় আভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক রুটে কোন ফ্লাইট বিলম্বিত হয়নি বলে দাবি করছে সিভিল এভিয়েশনের সদস্য অপারেশন এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান।
এ দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুক্রবার বিকেলে এয়ার ইন্ডিয়ার কাস্টমার সার্ভিসের কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের পুরো অফিস পুড়ে গেছে। লকার, কাগজপত্র ও টাকাপয়সা যা ছিল সব পুড়ে গেছে। আমাদের পাশে কাতার এয়ারের একটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত এ ব্যাপারে তিনি কোন ধারণা দিতে পারেননি।
বিমানবন্দরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাশেদা সুলতানা জানান, দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে বিমানবন্দরের মুল ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত এয়ার ইন্ডিয়ার অফিস থেকে আগুনের সূত্রপাত। এ পরিস্থিতিতে পুরো বিমানবন্দরের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অপর দিকে ধোঁয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন হয়ে যায়। পরে বিভিন্ন ফ্লোরের অধিকাংশ কর্মী বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং বহির্গমনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার চালু করে দেওয়া হয়। এরপরই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়। তিনি আরও বলেন, আগুনের ঘটনায় কোন ফ্লাইট বাতিল হয়নি।
আগুনের ঘটনায় তিন সদস্যের আলাদা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এই কমিটিকে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক (ঢাকা) দেবাশীষ বর্ধনকে। অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক (ঢাকা) মামুন মাহমুদ ও কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুল মান্নান। অপর দিকে আগুনের ঘটনায় বিমান কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে তাদের নাম জানা যায়নি।
ইত্তেফাক/জামান