ছাত্রলীগ সম্পাদকের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, কর্মচারীকে মারধর

চাঁদার টাকা না দেওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীকে ও বিকাশ দোকানের কর্মচারীকে মারধর করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা। শনিবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতা শাহ আলম ব্যাপারী জবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ঘনিষ্ট এবং একটি অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক হিসাবে নিজেকে দাবি করে।

প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসির সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক শাহ আলম ব্যাপারী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জাবেদ আলীর বিকাশের দোকানের ব্যানার খুলতে বলে। এ সময় দোকানের কর্মচারী রনি ব্যানার খুলতে অস্বীকৃতি জানালে শাহ্ আলম তাকে মারধর করে। পরে জাবেদ আলী শাহ আলমকে ফোন দিলে ফোনে তার সঙ্গে কথাকাটি হয়। ঘটনাস্থলে ডাকলে শাহ্ আলম বহিরাগত আট থেকে দশ জনকে নিয়ে এসে লাঠি, হাতুরী দিয়ে জাবেদ আলীকে মারধর শুরু করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জাবেদ আলী বলেন, ‘শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে শাহ আলাম ক্যাম্পাসের আশেপাশে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর নাম ভাঙিয়ে এবং ভুঁইফোর অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করে। সে কমিটি বিলুপ্ত করার পর দৈনিক তিনশত টাকা নেয়। পরে শাখা ছাত্রলীগের নেতকর্মীকে কাউকে চাঁদা না দিতে বললে তিনি চাঁদার টাকা দেওয়া বন্ধ করেন। তারপরেও সে বিকাশে ক্যাশআউটের কথা বলে ৫শত টাকা নেয়।’

জানা যায়, শাহ্ আলম ব্যাপারী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পরিচয় দিয়ে দৈনিক টিএসসির তিনটি খিচুড়ির দোকান থেকে ১২০০ টাকা, বিস্কুটের দোকান থেকে ৩০০ টাকা, আটটি চায়ের দোকান থেকে ৮০০ টাকা নেয়। এছাড়া ভিক্টোরিয়া পার্কের ফুটপাতের দুইপাশের সুত্রাপুর থানার ওসির নাম করে ফলের দোকানসহ অন্য দোকানে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা শাহ্ আলম ব্যাপারী বলেন, ‘টিএসসির বিকাশ দোকানের সামনে একটি মেয়ে মোবাইল ফোনের সিম বিক্রি করতো। বিকাশের দোকানের ব্যানারের কারণে তার দোকান ঢেকে যায়, এছাড়া ওই মেয়েটিকে বিভিন্ন সময় খারাপ কথা বলতো। আজকে তাকে ব্যানার খুলতে বললে দোকানের মালিক আমার সঙ্গে অশ্রাব্য গালিগালাজ করে। তাকে আমি মারধর করেনি।’

চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কেউ চাঁদাবাজির অভিযোগ করেনি। টিএসসির দোকানসহ বিভিন্ন দোকানে অনেকে ফাও খায়। এখন যদি কেউ দোকানের ব্যাক আপের কারণে কিছু দেয় তাতে আমার দোষ কিসের।’

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘শাহ্ আলম ছাত্রলীগের কেউ না। আর চাঁদাবাজির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবুও এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। অন্যায় করে কেউ পার পাবে না।’

আরও পড়ুনঃ নৌ যোগাযোগে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরো গভীর হবে: নৌ প্রতিমন্ত্রী

সুত্রাপুর থানার ওসি আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমি আজকে তার নাম প্রথম শুনলাম। আমার নামে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাকে আটক করে ধরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ রইলো।’

ইত্তেফাক/নূহু