বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) এর হাজার টন রাসায়নিক সার নগরবাড়ি ও বাঘাবাড়ি নৌবন্দর এলাকায় আকাশের নিচে রাখা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে বিদেশ থেকে আমদানি করা মাসের পর মাস আকাশের নিচে পড়ে থাকায় এই সারের বেশির ভাগ বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে শুকিয়ে শক্ত জমাট বেঁধে গেছে। এলাকায় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে সারের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ।
বাঘাবাড়ি-নগরবাড়ি নৌবন্দর এলাকা সরেজনি ঘুরে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিসিআইসি আমদানিকারকদের মাধ্যমে চীন, মিসর, সৌদি আরব, তিউনিশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার আমদানি করে। পরে বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে ওই সার সড়ক পথে সার মজুদের জন্য উত্তরাঞ্চলের ১৪টি বাফার গুদামে পৌঁছে দেয়া হয়। এদিকে গত বছরের সারে বাফার গুদামগুলো ভরা রয়েছে। এখন বাফার গুদামগুলোতে জায়গা না থাকায় বাঘাবাড়ির বড়াল নদের উত্তর পাড়, নগরবাড়িতে যমুনা নদীর পশ্চিম পাড় এবং নতুন বাসটারমিনাল এলাকায় সারের বস্তা স্তুপ করে রাখা হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকিয়ে শক্ত জমাট বাঁধা সারের গুণগতমান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এতে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে আসন্ন রবি ও বোরো আবাদে এই সার প্রয়োগ করে ভাল ফলন পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে কৃষকরা সংশয়ে রয়েছেন। বিসিআইসির বগুড়া আঞ্চলিক অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, উত্তরাঞ্চলের ১৪টি বাফার গুদামে এ বছর প্রায় তিন লাখ টন সার মজুদ আছে। আসন্ন রবি ও বোরো আবাদ মওসুমে সারের চাহিদা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৮৩ হাজার টন। ফলে সার সংকটের কোন সম্ভাবনা নেই। জমাট বাঁধা সারের নমুনা ঢাকার পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে গুণগত মান ঠিক আছে নিশ্চিত হয়েই জমাট বাঁধা সার গুড়া তা রিপ্যাকিং করে বাফারগুদাম এবং ডিলারদের সরবরাহ করা হচ্ছে।
সরেজমিন নগরবাড়ি ও বাঘাবাড়ি বন্দরে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস ধরে হাজার হাজার টন রাসায়নিক সার নদী তীরবর্তী ভেজা ও স্যাঁৎসেঁতে মাটিতে সারি করে রাখা হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে ও রোদে পুড়ে সারের কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে। নগরবাড়ি ও বাঘাবাড়ি বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলে আসছে।
বেড়ার নগরবাড়ি বন্দরে নোঙর করা এক কার্গো জাহাজের চালক বলেন, চট্রগ্রম বন্দর থেকে সাত হাজার বস্তা সার নিয়ে এসে কয়দিন ধরে নগরবাড়ি বন্দরে বসে আছেন। সার পরিবহন ঠিকাদাররা বলছেন, খুব শিগগিরই জাহাজ থেকে সার আনলোড করা হবে। অথচ বাফার গুদামে পাঠাতে না পারার কারণে এভাবে বসে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের বিসিআইসি’র অনুমোদিত ডিলাররা যথাসময়ে সার উত্তোলন করছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কয়েকজন সারের ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক দিন ধরে সারের বস্তা বাইরে পড়ে থাকায় সার জমাট বেঁধে যাওয়ায় এই সারের গুণগত মানের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। কৃষকরা এই সার নিতে চায় না। কৃষকরা দেশি সারের প্রতি বেশি আগ্রহী।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বাঘাবাড়ি ও নগড়বাড়ি বন্দরসহ এ অঞ্চলের ১৪টি বাফার গুদামে প্রায় এক লাখ টন রাসায়নিক সার মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে চায়না থেকে আমদানিকৃত নিন্মমানের সার রয়েছে। এই সারের গুণগতমান বাংলাদেশের কাফকো ও যমুনা সারের চেয়ে অনেক নিন্মমানের। এই নিন্মমানের সার সরবরাহের ক্ষেত্রে এক শ্রেণির আমদানিকারক, বাফার গুদাম ইনচার্জরা জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বেড়া উপজেলার এক কৃষি কর্মকর্তা বলেন, নগরবাড়ি নৌবন্দরে সংরক্ষণাগার না থাকায় রাসায়নিক সার দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে স্ট্যাক দিয়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পড়ে থাকলে এই সারের কার্যক্ষমতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষা করে সারের গুণগত মান ভাল পাওয়া গেছে।
ইত্তেফাক/এমআই