রংপুরের পীরগাছায় তিস্তার ভাঙনসহ পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের গাবুড়া, শিবদেবচর, আমিনপাড়া, চরছাওলা কামারের হাট, রামসিং, জুয়ানের চর, তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চরতাম্বুলপুর, নামাচর, চররহমত ও কান্দি ইউনিয়নের সতন্ত্ররা, দোয়ানি মনিরাম, তেয়ানি মনিরাম এবং দীঘটারিসহ ৪০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বন্যা দূর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত সরকারি ভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। বেসরকারি ভাবে কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
উপজেলার শিবদেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বি-তল ভবনটি তিস্তার ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে। ভবনটির বেশির ভাগ অংশই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। প্রমত্তা তিস্তার ভাঙনে আরো একাধিক গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
IMG0
এলাকাবাসি জানান, বিদ্যালয়টি ওই চরাঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষার আলো ছড়ানো একমাত্র প্রতিষ্ঠান। সোমবার পর্যন্ত বন্যা দুর্গত এলাকার ৬০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যায় অনেক পুকুর ও মৎস্য খামার তলিয়ে যাওয়ায় পুকুরের মাছ বের হয়ে গেছে। এক হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন চারা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় শতাধিক মৎস খামার পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, তিস্তা প্রতিরক্ষা বাঁধের পীরগাছা পয়েন্টে পানি বাড়ায় বাঁধের তিন কিলোমিটার অংশ হুমকির মূখে পড়েছে। বর্তমানে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে খাদ্য সামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানি নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে বন্যা দুর্গত এলাকার লোকজন জানায়।
ইত্তেফাক/কেকে