নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন মুমিনুল

 
টেস্ট গড় এখনো ৪৬.৮৮। ক্যারিয়ারের প্রথম ১১ ম্যাচে কোনো না কোনো ইনিংসে পঞ্চাশ রান পার করেছেন। সোজা কথায়, তিনি একটা ছোটখাটো রান মেশিন। বাংলাদেশের এই সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। অথচ এই মুমিনুল হক কী না ফর্মের কারণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে বাদ পড়েছিলেন!
 
এই বাদপড়া নিয়ে জাতীয় বিতর্ক হতে পারে, বিপুল ক্ষোভ ভক্তরা প্রকাশ করতে পারেন এবং বোদ্ধারা তুমুল সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু মুমিনুল হক নিজে এ নিয়ে একটু ক্ষোভ বা হতাশা প্রকাশ করার পক্ষের লোক নন। তিনি সোজা সেই আপ্ত বাক্য শোনালেন, খেলা বা না খেলা তার হাতে নেই। ফলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন না।
 
গতকাল অনুশীলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময়ে এই তরুণ ব্যাটসম্যান বলছিলেন, তার কাজ নিজেকে ভালোভাবে প্রস্তুত রাখা। সেটাই করছেন, ‘আমি ওভাবে চিন্তা করিনি। অনুশীলন করছি, প্র্যাকটিসের পাশাপাশি যেসব কাজ করা দরকার, করছি। খেলব কি খেলব না এটা টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। আমার হাতে যেটা আছে সেটা হলো আরো একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ আছে সেখানে ভালো খেলতে চেষ্টা করব।’
 
এ কথা মুমিনুলের চরম শত্রুও মানবেন যে, স্পিনের বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ব্যাটিংটা করতে পারেন তিনি। কিন্তু ক্রিকেটের সাধারণ সূত্র হিসেবেই সেই স্পিন তার ঘাতক হয়ে উঠেছে। অফস্পিনে বেশি বেশি শট করায় সেই অফস্পিনেই উইকেট যাচ্ছে। যদিও মুমিনুল এভাবে আলাদা করে চিন্তা করতে রাজি নন। ওতে সময়টা আরো কঠিন হয়ে যাওয়ার ভয় আছে বলে বলছিলেন, ‘আলাদা কোনো কজ করিনি। যদি আপনি ওইভাবে চিন্তা করেন, ব্লাইন্ড হয়ে যাবেন। ওইভাবে কাজ করিনি। যেসব ভুল আছে কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছি।’
 
অবশ্য মুমিনুলকে এখনই এত না ভাবলেও চলবে। তিনি যে ফর্মে ফেরার থেকে এক ইঞ্চি দূরে সেটা প্রমাণ হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত অনুশীলন ম্যাচে ৭৩ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি আছেন। একটা প্রশ্ন উঠেছে, ওখানে সেঞ্চুরিটা না পাওয়ার আফসোস আছে কি না। মুমিনুল খুব দার্শনিক উত্তর দিলেন, ‘আক্ষেপ সবসময়ই থাকে।  এক ’শ করে আউট হলে দুই ’শ রানের আক্ষেপ থাকে। দুই ’শ করে আউট হলে  তিন শ’র আক্ষেপ থাকে। তো এক ’শ যেহেতু করতে পারিনি অবশ্যই আক্ষেপ আছে। আমার মনে হয় এসব জায়গায় আউট না হওয়া ভালো। তবে পরবর্তীতে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠব।’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা সামনে। মুমিনুলদের এই প্রজন্মের জন্য এটা নতুন একটা অভিজ্ঞতা। এই দলটার বিপক্ষে টেস্ট খেলার আগে তিনি অবশ্য বলছিলেন, তার কাছে আর দশটা টেস্টের মতোই মনে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার মূল শক্তির জায়গা পেস। বলছিলেন, সেই পেস খেলতে নিজেকে পুরো প্রস্তুত করে ফেলার চেষ্টাই করছেন নেটে। অবশ্য একটা সাধারণ ধারণা, বাংলাদেশ স্পিন উইকেট নিয়েই ঝাঁপাবে। কিন্তু উইকেট নিয়ে মন্তব্য করতে চান না মুমিনুল হক, ‘উইকেট নিয়ে আমি এখনো কোনো মেসেজ পাইনি। আমি জানি না উইকেট স্পিন নাকি ফ্ল্যাট হবে। আমার নিজের উপর চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। উইকেট যেমনই হোক নিজের জন্য ও দলের জন্য ভালো খেলতে হবে। রেগুলার নেটে ব্যাটিং করছি, পুরনো বল ও নতুন বলে ব্যাটিং করছি, মেশিনে ব্যাটিং করছি। আলাদা আলাদাও করছি কেননা দিন শেষে একটু চিন্তাই করতে হয় যে, এই পেস বল আছে, ওই পেস বল আছে।’
 
ইত্তেফাক/আনিসুর