কিশোরগঞ্জে চারদিনের টানা বর্ষণে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় গত চারদিনের টানা বর্ষণ ও  উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ৫০ জন মৎস্যচাষীর পুকুরের  মাছ ভেসে গেছে। এছাড়াও আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২৮০ জন মৎস্যচাষী। ফলে কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মৎস্যচাষীরা।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, এ উপজেলায় তালিকাভুক্ত মৎস্যচাষী রয়েছে ২ হাজার ৮৫০ জন। এদের মধ্যে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ ৫০ জন এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২৮০ জন চাষী। ফলে এক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মৎস্য চাষীরা।

নিতাই ইউনিয়নে বানিজ্যিকভাবে মাছ চাষী নীলফামারী এগ্রো ফিশারিজ লিমিটেডের মালিক মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদনের লক্ষে ১২ একর ৩ শতাংশ জমিতে ৬টি পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করি। গত দুই বছরে মাছ বিক্রি করে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মুনাফা করেছিলাম। কিন্তু সৃষ্ট বন্যায় ৬ টি পুকুরের মাছ সমুলে ভেসে গেছে এবং পুকুরের সব বাঁধ ভেঙ্গে বালু ভরাট হয়ে সমভুমিতে পরিণত হয়েছে।

বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবর গ্রামের মৎস্য চাষী রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই বিঘা জমির পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ উন্নত প্রজাতির বিভিন্ন প্রকার মাছের পোনা অবমুক্ত করেছিলাম। ৬ মাসে মাছগুলো এক কেজি থেকে সোয়া কেজি ওজনের হয়েছিল। কিন্তু উজানের ঢলে ধেয়ে আসা পানিতে পুকুরের বাঁধ ভেঙে গিয়ে মাছগুলো ভেসে গেছে।

চাঁদখানা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদখানা গ্রামের মাছ চাষী আব্দুল খালেক জানান, দুই একর জমির পুকুরে আট মণ মাছের পোনা ছেড়ে ছিলাম মাছগুলো বাজাওে বিক্রি করার উপযোগী হয়েছিল। আশা করেছিলাম মাছ বিক্রি করে পুকুর পাড়ে নারকেলের বাগান করব কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি দিয়েছে বন্যা। মাছগুলো ভেসে যাওয়ায় আমি অর্থনৈতিক ভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।

এরকম ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্যচাষী উত্তর দুরাকুটি গ্রামের ফরহাদ হোসেন, রণচন্ডি ইউনিয়নের আফছার আলী বাদাউ, নগরবন গ্রামের শরিফুল ইসলাম, ছামছুল হকসহ অনেকে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, এসব ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্যচাষীর তালিকা করেছি আমরা। ক্ষতির পরিমান নির্ধারন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

ইত্তেফাক/নূহু