যথাযোগ্য মর্যাদায় ও অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন করে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে স্থায়ী মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবস পালনের কর্মসূচি শুরু করা হয়। এরপর ১৫ আগস্টের শহীদদের উদ্দেশ্যে মিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী একমিনিট নীরবতা পালন করেন। শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করার মাধ্যমে সকালের সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানসূচী শেষ হয়।
বিকেলে ৬টা ৩০ মিনিটে মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান “আলোচনা পর্ব”। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির পিতার জীবন ও কর্মের ওপর প্রণীত একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও
মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।
আলোচনা পর্বে অন্যান্যদের সাথে অংশগ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্রে সফররত খুলনা-২ আসনের এমপি ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মো. জাহিদ আহসান রাসেল, হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান।
আলোচনা পর্ব শুরুর আগে অডিটোরিয়ামে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সফররত তিন এমপিকে সাথে নিয়ে স্থায়ী প্রতিনিধি মিশনের পক্ষে জাতির পিতার প্রকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় মিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারিগণ উপস্থিত
ছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জাতির পিতার প্রকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। স্থায়ী প্রতিনিধি তাঁর ভাষণে বলেন, “১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো বাংলায় যে ভাষণ দিয়েছিলেন তার মধ্যেই ২০১৫ সালে জাতিসংঘ গৃহীত এসডিজির ১৭টি অভীষ্টের অধিকাংশই প্রতিফলিত হয়েছে, যা বিস্ময়কর”। তিনি আরো বলেন, “জাতির পিতার হত্যাকারীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ জাতির পিতার জীবন ও আদর্শকে ধারণ করেছে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বিশ্বের বুকে সগৌরবে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ”।
এমপি জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, “জাতির পিতা আমাদের দেখিয়ে গেছেন, কিভাবে দেশের জন্য, মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে হয়”। তিনি আরও বলেন, “জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ইতিহাস বিকৃতি ও বিচারহীনতার যে সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা হত্যার বিচার ও ইতিহাস বিকৃতি রোধ করে সে কলঙ্ক থেকে জাতিকে মুক্ত করেছে”।
অ্যাডভোকেট আবু জাহির এমপি জাতির পিতার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবন ও জেল জুলুমের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক জান্তারা যে মহামানবকে হত্যা করতে সাহস পায়নি তাঁকে ৭৫-এর ঘাতকরা সপরিবারে নির্মমভাবে কাপুরুষের মতো হত্যা করেছিল, এমন
হত্যাকাণ্ড এর আগে কখনই বিশ্ব দেখেনি।’’
এমপি মিজানুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতা হত্যার বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “প্রবাসীরাও মুক্তিযুদ্ধসহ সকল সংকটে দেশের পাশে থেকেছেন। হৃদয়ে দেশপ্রেম নিয়ে মাতৃভূমির উন্নয়নে কাজ করেছেন”। তিনি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ায় প্রবাসীদের আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাসুদুল হাসান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, যুক্তরাষ্ট্র সফররত রাজউকের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মুকিত চৌধুরী, জেনোসাইড একাত্তর, যুক্তরাষ্ট্র এর সভাপতি ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি দুরুদ মিয়া, নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মেজবাহ আহমেদ, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম ও যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ আহসান।
অনুষ্ঠানে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রিতে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির হাতে নৃশংসভাবে নিহত জাতির পিতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ