আদিতমারীতে বন্যায় ৩৬ গ্রামের লোক ক্ষতিগ্রস্ত

 
তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও সেখানকার লোকজনের ভোগান্তির শেষ নেই। বাড়ি-ঘর থেকে পানি বের হলেও রাস্তা ঘাটের বেহাল দশায় বেড়েই চলেছে ভোগান্তি। আশ্রয় কেন্দ্র থেকে আশ্রিত পরিবারগুলো নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে আবারও বন্যায় আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা।
 
বন্যার পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে মহিষখোচা ইউনিয়নের চর গোবরধন গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দু'দিনে প্রায় আটটি পরিবারের বাড়িঘর তিস্তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
 
এদিকে বন্যা কবলিত এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লোকজন কাজ করে যাচ্ছেন। তারা আদিতমারী ডাক বাংলায় অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে মেডিকেল টিমসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
 
উপজেলা প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বন্যায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নের ৩৬টি গ্রামের ১০ হাজার পরিবারের ৪০ হাজার লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিয়নগুলো হলো- মহিষখোচা, ভেলাবাড়ি, দুর্গাপুর, সারপুকুর ও পলাশী। এদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন মহিষখোঁচা ও দুর্গাপুর। মহিষখোঁচা ইউনিয়নের বন্যা কবলিত লোকজনের দুটি আশ্রয় কেন্দ্রে তিন শতাধিক লোকজন আশ্রয় নিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। বন্যায় সম্পূর্ণভাবে ২৫০টি পরিবারের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা দুই হাজার ৬৫০টি। এছাড়া বন্যার কারণে উপজেলার ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির পরিমাণ দুই হাজার ৭৯৭ হেক্টর।
 
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, এখন পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারীভাবে জিআর ৬৮ মেট্রিকটন চাল, এক হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার ও চার লাখ টাকা নগদ বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে বন্যাকবলিত মানুষজনের জন্য বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই বিতরণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/জামান