ঝিনাইদহে পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী ও সেবায়েত শ্যামানন্দ দাস বাবাজী হত্যা মামলায় পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তদন্তের পর এ দুটি চাঞ্চল্যকর মামলায় চার্জশিট প্রদান করা হয়। বুধবার সেবায়েত হত্যার মামলা চার্জশিট দেয়া হয়। এর আগে পুরোহিত হত্যা মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে।
পুরোহিত আনন্দ গোপাল হত্যা মামলার তদন্তকারি অফিসার ঝিনাইদহ সদর থানার এস আই মিজানুর রহমান জানান, এ মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। তারা হচ্ছে- ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আড়মুখ কুঠিপাড়ার এনামুল হক, যাত্রাপুর গ্রামের হাফেজ রাজু, হরিপুর গ্রামের খায়রুল ইসলাম ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রামজীবনপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন। এ মামলার অপর দুই আসামি বদনপুর গ্রামের শহীদ আল মাহমুদ ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার যুগিয়া গ্রামের আনিসুর রহমান গত বছর পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।
২০১৬ সালে ৭ জুন সকালে পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী করাতিপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে বাইসাইকেল যোগে নলডাঙ্গা মন্দিরে পুজা করতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ওঁৎ পেতে থাকা জঙ্গিরা তাকে কুপিয়ে হত্যার পর মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়।
গত বছরের ১ জুলাই সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর কাস্টসাগড়া গ্রামের রাধা মদন গোপাল মঠ মন্দিরের সেবায়েত শ্যামানন্দ দাস বাবাজীকে মঠের সামনে রাস্তার পাশে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। তিনি মঠের সামনের বাগান থেকে পুজার ফুল তুলছিলেন। হত্যার পর ঘাতকরা মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। মঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের নামে মামলা করেন।
এ মামলার তদন্তকারি অফিসার সদর থানা এস আই আলাউদ্দিন জানান, তিন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। তারা হচ্ছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি গ্রামের শাহিন আলম, সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের আলি আজম ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রামজীবনপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন। শাহীন আলম পুলিশের হাতে ধরা পরার পর হত্যার দায় স্বীকারে করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করে। এ মামলার অন্য দু আসামি পলতক রয়েছে।