ভূঞাপুরে বন্যা আরো অবনতি

 
প্রবল বর্ষা ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি দেখা দিয়েছে। এতে নতুন নতুন এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
 
বন্যায় বন্ধ হয়ে গেছে ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গবাদি পশু নিয়ে বানভাসি মানুষ চরম ভোগান্তি পড়েছে। গো খাদ্য সংকটে এবং আশ্রয়স্থল না থাকায় পানিতে পড়ে গবাদি পশুগুলো মারা যাচ্ছে। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বুধবার যমুনা নদীতে বিপদসীমার ১৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যা মঙ্গলবার ছিল ১৩৬ সেন্টিমিটার। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে পানি।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা হওয়ায় টিউবওয়েলগুলো পানির নিচে চলে গেছে। এতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। বাধ্য হয়েই ডুবন্ত টিউবওয়েলের পানি পান করে পানি বাহিত রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বানভাসি মানুষ। এই মুহূর্তে পানিবন্দী মানুষ খাবার পানির জন্য পানি বিশুদ্ধ করনের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ, গৃহপালিতগুলো বাঁচিয়ে রাখার জন্য গো-খাদ্য, উঁচু স্থানে আশ্রয়। সরকারি-বেসরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহীনুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাই স্কুল ও মাদ্রাসা মিলে ১৪টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহনেওয়াজ পারভীন বলেন, ৫২টি প্রাথমিক স্কুল বন্ধ আছে, এর মধ্যে ৬টি স্কুলে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ও একটিতে গোবিন্দাসী পুলিশ ফাঁড়ি স্থানান্তর করা হয়েছে।
 
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক বলেন, পিংনা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত বেড়ি বাঁধে, অর্জুনা, গোলপেচা ও কুঠিবয়ড়া বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সর্তক থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে। সেগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে শুক্রবারের মধ্যে জনপ্রতিনিধিরা বানভাসীদের কাছে পৌঁছে দিবে।
 
ইত্তেফাক/জামান