জামালপুরে বন্যায় দু্ইজনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ২

 
জামালপুরে বন্যায় বুধবার সকালে এক ছাত্রসহ দুইজনের প্রাণহানি ও আরেক ছাত্রসহ আরও দুইজন মেলান্দহ-ভালুকা সড়কের নাওধরা ব্রিজে পানি দেখতে গিয়ে স্রোতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সার্বিক বন্যার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহরূপ ধারণ করেছে। জেলার সাতটি উপজেলার প্রায় ছয় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। 
 
নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মেলান্দহ থানার ওসি মজাহারুল করিম জানান, ছাত্ররা হলেন- সদারবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ময়না শেখের ছেলে সজিব (১৬), মেলান্দহ পৌরসভার নাগেরপাড়ার বাসিন্দা লিয়াকত আলীর ছেলে জিল্লুর রহমান শান্ত (১৬)। তারা মেলান্দহ উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণি ছাত্র। আরেকজন হলেন, জামালপুর সদর উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বদরুল আলমের ছেলে কাজিরপাড়া এলাকায় বসবাসকারী লাল মিয়া (৪২) নিখোঁজ হয়। এদের মধ্যে জিল্লুর রহমান শান্তর লাশ উদ্ধার করা হলেও অপর দুইজন নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া একই দিন বকসিগঞ্জ উপজেলার মালির পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল হক (৪০) নামে একজন পানিতে পড়ে মারা যায় বলে সংবাদ পাওয়া গেছে।
 
অপর দিকে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ রেলরুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পর গত বুধবার রাতে জামালপুর-সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি রেল পথে বন্যার পানির স্রোতে বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে ভেঙে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে ঢাকা-জামালপুর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। এদিকে বন্যায় সয়লাব করায় সারা জেলায় ৬১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৩২১টি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা) সহ সর্বমোট ৯৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
 
অপরদিকে দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলার সাথে জেলা ও রাজধানীর সকল অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যার পানির ঘূর্ণায়মান স্রোতে অনেক স্থানে নৌকা যোগেও যোগাযোগ সম্ভব না বলে এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন ইউপির চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে ইসলামপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের যমুনার দ্বীপচর গুলোতে নৌকা যোগে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গত কাল ১৬আগস্ট বুধবার ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপদ সীমার ১৩৩ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে স্থিতিশীল অবস্থায় প্রবাহিত হচ্ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন পাউবো পানি মাপক গেইজ পাঠক আব্দুল মান্নান।
 
এদিকে সারা জেলার বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষ উঁচু বাঁধে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়ে অনেকেই আবার খোলাকাশের নীচে পরিবারবর্গ নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাপন করছে মানুষ। ত্রাণ বিতরণ প্রয়োজনের তুলানায় খুবই কম। ত্রাণের জন্য চলছে হাহাকার। আবার কোথাও পানি তোড়ে ত্রাণ পৌঁছানোর সুযোগ নেই।এ ব্যাপারে ইসলামপুরের স্থানীয় এমপি আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল জরুরী ভিত্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ খাদ্য ও ত্রাণ মন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
 
ইত্তেফাক/জামান