নন্দীগ্রামে হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে

নাগর নদীর বাঁধ ধ্বসে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার দুই ইউনিয়নের ১ হাজার ২০ হেক্টর জমির আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দূর্ভোগে পড়েছে ১৭টি গ্রামের প্রায় ৭ শতাধিক পরিবার।

ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে উপজেলার পশ্চিম সীমান্তের নাগর নদী ভরে যায়। এতে করে মঙ্গলবার রাতে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন এলাকার বাঁধ ধ্বসে যায়। ফলে পাশের গ্রামে মাঠগুলোতে পানি ঢুকে পড়ে। এছাড়া কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ভাটরা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মাঠ পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ফলে ফসল হুমকির মুখে পড়েছে।

বুধবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নের বাঘাদহ, পারঘাটা, গুলিয়া, কৃষ্ণপুর, ঘুনপাড়া, জামালপুর, গোপালপুর, বনগ্রাম, পারশুন ও ভাটরা ইউনিয়নের নাগরকান্দি, দমদমা, ডেওবাড়ি, বৃষ্ণপুর, শশিনগর, চাতরাগাড়ি, কালিয়াগাড়ি, মূলকুড়ি মাঠ পানিতে থৈ-থৈ করছে। পানিতে তলিয়ে গেছে কমপক্ষে ১ হাজার ২০ হেক্টর জমির আমন ধান।

পারঘাটা গ্রামের আবুল হোসেন, আইয়ুব আলী জানান, এই এলাকার বেশিরভাগ কৃষকের জমি এখন পানির নিচে। তারা অবিলম্বে নাগরনদী খননের দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের নাগর নদীর বাঁধের দিকে নজর নেই। বাঁধ ধ্বসে যাওয়ার বিষয়টি তাদের জানানোর পরও দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেউ এখানে আসেনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মুহা. মশিদুল হক জানান, নাগর নদীর পানি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে পারশুন বাঁধ ধ্বসে থালতা মাজগ্রাম ও ভাটরা ইউনিয়নের ১৭ টি গ্রামের ১ হাজার ২০ হেক্টর জমির আমন ধান তলিয়ে গেছে। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য কৃষি সহায়তা প্রদানের জন্য উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু