স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রয়াত বংশীবাদক


স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রয়াত বংশীবাদক বরিশালের  গৌরনদী উপজেলার টিকাসার গ্রামের আব্দুল ওহাব পাইক মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা সত্ত্বেও আজও তার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এ কারণে তার স্বজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। আব্দুল ওহাব পাইক ওই গ্রামের মৃত করম আলী পাইকের পুত্র।

আব্দুল ওহাব পাইকের স্ত্রী মেঘনা বেগম জানান, আমার স্বামী স্বাধীন বাংলা বেতারের একজন বংশীবাদক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার মুক্তিযোদ্ধা সনদসহ তথ্য-প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল ওহাব পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চিকিত্সার জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিত্সা চলে সরকারি অর্থে। ওই সময়  স্বাধীন বাংলা বেতারের বংশীবাদক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদান হিসেবে নগদ এক লাখ টাকা ও প্রতি মাসে দশ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ সুযোগ-সুবিধা  ভোগ করেছেন।

২০১৫ সালের জুলাই মাসে তিনি মারা যান। স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের একটি মহান উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। সে সুবাদে স্বাধীন বাংলা বেতারের প্রয়াত বংশীবাদক আব্দুল ওহাব পাইকের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ও স্বাধীন বাংলা বেতারের কেন্দ্রীয় পরিষদের নের্তৃবৃন্দের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন  মেঘনা বেগম ও তার স্বজনরা ।

ইত্তেফাক/নূহু