নওগাঁর পত্নীতলা আত্রাই নদী ও সাপাহারে পূর্ণভবা নদীর নতুন করে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় এ দুটি উপজেলা হাজার হাজার লোক পানি বন্দী হয়েছে। বন্যা হাজার হাজার বিঘা ফসলের ক্ষতি হয়েছে। শতশত পুকুরের মাছ ভেঁসে গেছে। জেলার ছয়টি নদীতে পানি বাড়ায় বিপদসীমার এখনও উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত কয়েকদিনে জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ৯টি উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ এখন বন্যা কবলিত।মান্দা, রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার ১৫টি স্থানে আত্রাই নদী ও ছোট যমুনার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও বেরী বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে এক লাখ হেক্টর জমির ফসলি জমি তলিয়ে গেছে এবং কয়েক হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। প্রায় ৩ লাখ লোক পানি বন্দি হয়ে পড়লেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ৩৩ মেট্রিকটন চাল এবং ৫২ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
জেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ অফিস বলছে, এ পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলার ৫৮টি ইউনিয়নের ২৭০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। বন্যায় প্রায় ২ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে ৯শ’ ৬০টি এবং আংশিক ভাবে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৭ হাজার ৬শ’ ৪টি। বন্যা কবলিত এলাকার অসহায় পরিবারগুলো বিশ্ব বাঁধে, স্কুলে ও উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষের কাছে সরকারি সাহায্য বা ত্রাণ না পৌঁছায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানিয়েছেন, জেলায় খাদ্য মজুদ আছে সাড়ে ৭৪ মেট্রিক টন খাদ্য এবং নগদ টাকা মজুদ আছে ৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। প্রয়োজনীয় চাহিদা সরকারের কাছে দাখিল করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/কেকে