পাকিস্তান আমলে নির্মিত ভবনেও রডের পরিবর্তে বাঁশ!

 
ভবন নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে মাস কয়েক আগে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছিল দেশব্যাপী। তবে অবাক হলেও সত্য, এই রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার হয়ে আসছে সুদূর পাকিস্তান আমল থেকে। আজ বৃহস্পতিবার এর সত্যতা মিলেছে খোদ নোয়াখালীর সেনবাগ পৌর শহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
 
সুদূর পাকিস্তান আমলে নির্মিত ওই বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ফেলার সময় রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চির ব্যবহার খুঁজে পাওয়া গেছে। বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে পৌর শহরে জানাজানি হলে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে নানা কৌতূহল সৃষ্টি হয়। 
IMG0
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভিপি আবু নাছের দুলাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুপুরে ইত্তেফাককে জানান, তার বিদ্যালয়ে জন্য নতুন একটি ওয়াশ রুম করার জন্য স্কুলে প্রবেশের পাশে পরিত্যক্ত ভবনের জায়গাটি নির্বাচন করা হয়। আনুমানিক ৬০ থেকে ৬৫ বছর আগে পাকিস্তান সরকারের আমলে এ ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। যার নিচের অংশে পাকা ও উপরের অংশে টিন দ্বারা আবৃত ছিল।
 
তিনি আরো জানান, দীর্ঘ দিন পরিত্যক্ত থাকার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ওই ভবনটি ভাঙ্গার কাজ শুরু হয়। ভবন ভাঙ্গার এক পর্যায়ে দেখা যায়, ভবনের ভিমগুলোতে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছিল। ঘটনাটি দেখে ভাঙ্গার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা অবাক বনে যান। পরে দেখা যায়- পুরো ভবনের এক অংশ ভাঙ্গার পর রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়। বাঁশের কঞ্চিগুলো দেখতে অনেকটা অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
IMG1
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি-ঘটনাটি জানার সাথে সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান।
 
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহাজাহান-(সুদূর পাকিস্তান আমলে সেনবাগ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের বিষয়টি) ঘটনাটি শুনেছেন বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর