লক্কড়-ঝক্কড় ও মেয়াদোত্তীর্ণ ফেরি দিয়ে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ রুটে চলছে পদ্মা পারাপার। চলমান ফেরিগুলোর মধ্যে অন্তত ছয়টি রয়েছে যেগুলো পাকিস্তান আমলে এক সময় কলকাতা-নারায়ণগঞ্জ রুটে পাট পরিবহন করে এখন জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে যানবাহন পরিবহন করে চলেছে।
এই ভরা বর্ষায় উত্তাল পদ্মায় তীব্র স্রোতের মাঝে প্রতিনিয়ত শত শত যাত্রীবাহী ও পণ্য বোঝাই যানবাহন নিয়ে ফেরিগুলো চরম ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দিচ্ছে। এরই মাঝে বিকল হয়ে পড়েছে দুটি ফেরি। যেগুলো চলছে তাও বেশির ভাগই খুঁড়িয়ে। স্রোতের গতিবেগ বেশি থাকলে ফেরিগুলো অনেক সময় বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকার সঙ্গে স্বল্প দূরত্বের নৌ রুট হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সকল যানবাহন প্রতিনিয়ত পদ্মা পারাপারে বেছে নিয়েছে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ রুট। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ রুটে যানবাহন পারাপারে ১৯টি ফেরির মধ্যে বেশ কিছু লক্কড়-ঝক্কড় ও মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে তীব্র স্রোতের মাঝে নদী পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয় ফেরিগুলোকে। স্রোতের গতিবেগ অনেক সময় বেশি থাকলে প্রায়ই বন্ধ রাখা হয় পুরাতন মেয়াদোত্তীর্ণ বেশ কিছু ফেরি। আন্তর্জাতিক মেরিটাইপ সংস্থার (আইএমও) কোড অনুযায়ী বাংলাদেশে চলাচলরত ফেরিগুলো ৩০ বছর চলার কথা থাকলেও কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া রুটের বেশির ভাগ ফেরি অতি পুরাতন ও মেয়াদোত্তীর্ণ। ফ্ল্যাট ফেরিগুলোর মধ্যে ১৯৩৮ সালে থোবাল ও যমুনা, ১৯২৫ সালে রানীক্ষেত, রায়পুরা, রানীগঞ্জ ও টাপলো এক সময় নারায়ণগঞ্জ থেকে কলকাতা পাট বহন করলেও পরে তা ফেরি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। অথচ এগুলোর মেয়াদ অনেক আগেই অতিবাহিত হয়েছে।
এদিকে বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার আ. সালাম বলেন, স্রোতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ফেরি সার্ভিস চালিয়ে যাচ্ছি। তীব্র স্রোতে স্রেফ ইঞ্জিন চালিত রো রো ফেরিগুলো ঠিকমতো চলতে পারছে। ডাম্ব ফেরিগুলো চলাচলে সময় কিছুটা বেশি লাগছে। কয়েকটি ডাম্ব ফেরি মেরামতের কাজ চলছে। কয়েকটি ফেরি যোগ করা হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের ভোগান্তি লাঘবে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ইত্তেফাক/নূহু