রামগড়ে জেএমবির অবস্থানের তথ্য দিতে প্রত্যেক মসজিদে ওসি’র চিঠি

খাগড়াছড়ির রামগড় ও পার্শ্ববর্তী ফটিকছড়ির কিছু এলাকায় জেএমবি’র সদস্যরা অবস্থান করছে এবং তারা ব্যাংকে হামলা এবং বিজিবি ও পুলিশের অস্ত্র-গুলি লুট করবে এমন তথ্য সম্বলিত চিঠি মসজিদে মসজিদে পাঠিয়ে মানুষকে এ ব্যাপারে  সচেতন করার জন্য ইমামদের অনুরোধ জানিয়েছেন রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ। ওসির এ চিঠি এলাকায় প্রচার হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, রামগড়ের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির বরাবরে থানার অফিসার ইনচার্জের(ওসি) ৫/৮/১৭ তারিখে স্বাক্ষরিত চিঠিতে  লামকুপাড়ার জনৈক মো: শাহজাহানের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়, তিন পার্বত্য জেলায় অসংখ্য ট্রেনিংপ্রাপ্ত জেএমবি প্রবেশ করেছে। তারা ব্যাংকে হামলা ও বিজিবি ও পুলিশের অস্ত্র-গুলি লুট করার পরিকল্পনা করেছে। বর্তমানে তারা ফটিকছড়ির হেয়াকো, চিকনছড়া, বড়বিল, লালমাই রামগড়ের নজিটিলা বল্টুরামটিলা, তৈচালা, খাগড়াবিল, কালাডেবা ও লামকুপাড়ায় অস্থান করছে।

ঐ চিঠিতে আরও বলা হয়, বিএনপির সদস্য ও কিছু সংখ্যক হুজুররা মিলে  নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। নাশকতাকারীরা যেন নিরীহ লোকজনদের কোন ক্ষতি করতে না পারে এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করে প্রত্যেক মসজিদে জুমা নামাজের পূর্বে কোরআন, হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য ইমামদের অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে, আজ শুক্রবার জুমা নামাজের পর থানার ওসির এ চিঠির বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর এলাকার লোকজনদের মধ্যে আতংক দেখা দেয়। মসজিদের এক ইমাম জানান, গত বৃহষ্পতিবার থানার পুলিশ প্রতিটি  মসজিদে এ চিঠি বিলি করেন।

চিঠিতে উল্লেখিত এলাকায় জেএমবির অবস্থান এবং ব্যাংকে হামলা এবং বিজিবি ও পুলিশের অস্ত্র ও গুলি লুটের পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা কতটুকু এমন প্রশ্নের জবাবে রামগড় খানার অফিসার ইনচার্জ শরীফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে এমন চিঠি দেয়ার কারণ জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘মানুষকে সচেতন করার জন্য এটি দেয়া হয়েছে।’

এদিকে, রামগড়স্থ ৪১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল এম জাহিদুর রশীদ রামগড় ও আশেপাশে জেএমবির অবস্থান এবং থানার অফিসার ইনচার্জের এ সংক্রান্ত চিঠির ব্যাপারে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সারা দেশের মত রামগড়েও জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে বিজিবি সতর্ক আছে। কিন্তু রামগড় বা পাশের কোন এলাকায় জেএমবি অবস্থান করছে এ ধরণের কোন তথ্য তার জানা নেই।

ইত্তেফাক/নূহু