ভেন্যু দেখে খুশি অস্ট্রেলিয়ার অগ্রবর্তী দল

 
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। গতকাল শুক্রবার নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন র‌্যাডিসন ব্লু হোটেল থেকে মহড়ার কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল ১০টায় ‘ডামি’ খেলোয়াড় নিয়ে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের দিকে যাত্রা শুরু করে টিম বাস। বাসের সামনে পেছনে ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের বেশ কয়েকটি গাড়ি। চট্টগ্রাম সফররত অস্ট্রেলিয়ার অগ্রবর্তী দলের দুই প্রতিনিধি, তিনজন অতিরিক্ত কমিশনারসহ চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা মহড়ায় অংশ নেন।
 
‘টিম বাস’ যখন জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের কাছাকাছি সাগরিকা মোড়ে এসে পৌঁছায় ঠিক তখনই পরপর বিকট শব্দে দু’টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর হয়ে ওঠেন। টিম বাসকে কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে দ্রুত ভেন্যুতে নিয়ে আসেন। এভাবেই নিরাপত্তা মহড়া দিয়ে নিজেদের প্রস্তুতির পরীক্ষা দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
 
হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু থেকে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের দূরত্ব সাড়ে সাত কিলোমিটার। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দলের খেলোয়াড়দের বহনকারী টিম বাস দু’টিকে হোটেল থেকে ভেন্যু পর্যন্ত নিরাপদে নিয়ে যাওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ সিএমপি’র। এ কারণে নিরাপত্তা মহড়ায় এই বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
 
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে জানিয়ে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মাসুদ উল হাসান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আজকের মহড়াটি ছিল প্রস্তুতিমূলক। ঘটনা যে এভাবেই ঘটবে তা আমরা জানি না। এটা যে জঙ্গি হামলার প্রস্তুতি তাও আমরা বলিনি। রাস্তায় যে কোনো ধরনের সমস্যা হতে পারে। তেমন হলে কী করতে হবে আমরা সেটা মহড়া করেছি। এটার সাথে জঙ্গি বা এ ধরনের কিছুর সম্পর্ক নেই। কিছু ঘটলে তা মোকাবিলার জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি। হঠাৎ কিছু ঘটলে আমার যেন বিভ্রান্ত না হয়ে যাই। একজন আরেকজনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। তেমন যেন না হয়। একটা মানসিক প্রস্তুতি যাতে আমাদের থাকে।’
 
আসন্ন সিরিজে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ছয় স্তরের নিরাপত্তা থাকবে জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, ফায়ার ব্রিগেড থাকবে। প্রতিটা টিমের সাথে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। পুলিশের বিশেষ কিছু ইউনিট কাজ করবে। যেমন সোয়াত, কুইক রেসপন্স টিম। এরা সবাই আমেরিকা ও ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। আমাদের বিশেষ কিছু যানবাহন। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ টিম আছে। সিআইডি’র ক্রাইম সিন ভ্যান আছে। সবাই মিলে আমরা একসাথে কাজ করবো। প্যারা কমান্ডোকে চট্টগ্রামেও প্রস্তুত রাখা হবে। আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন এখানেও প্রস্তুত থাকবে। হেলিকপ্টার থাকবে। এয়ার ইভাকুয়েশন প্রয়োজন হলে তারা সক্রিয় হয়ে উঠবে।’
 
এদিকে গতকাল শুক্রবার হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের মাঠ, খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুম, মিডিয়া বক্সসহ বিভিন্ন অবকাঠামো পরিদর্শন করে অস্ট্রেলিয়া টিমের অগ্রবর্তী দল। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দলের হেড অব সিকিউরিটি শন ক্যারল। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শোনা যায় তার মুখে। বলেন, ‘খুব সুন্দর একটি স্টেডিয়াম। প্রথম শ্রেণির ও আন্তর্জাতিক মানের সব সুযোগ সুবিধাই রয়েছে এখানে।’
 
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া দেখেও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘এই মহড়াটি ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা তুলে ধরার প্রয়াস।’ মহড়া আয়োজনের জন্য তিনি চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকার মিরপুর ও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম দেখেছি। দু’টিই অত্যন্ত ভালোমানের স্টেডিয়াম।’
 
ইত্তেফাক/এমআর